
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আধিপত্যবাদ, দুঃশাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন ও গুমের রাজনীতির অবসান ঘটাতে জনগণের ব্যালট বিপ্লবই একমাত্র কার্যকর ও শান্তিপূর্ণ পথ।
তিনি শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেচুরিয়াস্থ সেভেন স্টার ক্লাবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাঁশখালী উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলদের প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের মানুষ এখন আর বিভ্রান্ত নয়। অতীতে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি। আজ জনগণ সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে—যারা সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
তিনি দুর্নীতি ও ভ্রান্ত প্রতিশ্রুতিনির্ভর রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জনগণ এখন সচেতন। তারা দেশ পরিচালনায় নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এইচআরএম সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন।
ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম, সেক্রেটারী অধ্যক্ষ বদরুল হক, বাঁশখালী সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী মো. আবু নাছের, উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল এবং সেক্রেটারী আরিফ উল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে এবং জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় নিশ্চিত করা হবে। পর্যায়ক্রমে ট্যাক্স ও ভ্যাট কমিয়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। শিক্ষিত বেকারদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এছাড়া স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি। বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি।
সমাবেশে ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।