
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সড়কের পাশ থেকে মাথাবিহীন এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের মাথা না থাকায় পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত ফিঙ্গার প্রিন্টের (আঙ্গুলের ছাপ) মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্য কোন স্থানে নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে হত্যাকারীরা লাশটি ফেলে রেখে গেছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের শ্রীনিবাসদী এলাকায় একটি রাস্তার পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী- নিহত ওই ব্যক্তির নাম শহীদুল ইসলাম (৩৬)। তিনি সিলেট সদর উপজেলার হাউজিং এসেস্ট এলাকার মৃত আনোয়ার ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে দুপুরে স্থানীয়রা বগাদী শ্রীনিবাসদী সড়কের শ্রীনিবাসদী এলাকায় সড়কের পাশে মাথাবিহীনে এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সবশেষ ওই দিন বিকেলে পিবিআই মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে প্রযুক্তিগত সহায়তায় পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
এদিকে লাশ দেখতে শত শত নারী উৎসুক নারী পুরুষ ভীড় করে। আব্দুর রহমান নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানায়, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড তার জীবদ্দশায় দেখেননি। প্রথমে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। পরে এসে দেখি বিবস্ত্র অবস্থায় মাথাবিহীন একটি লাশ। শরীরটা ছিন্ন ভিন্ন।
আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, লাশটির মাথা নেই এবং পেটের নাড়িভুঁড়ি বের করা অবস্থায় পাওয়া গেছে। শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। আশপাশে মাথার কোনো সন্ধানও পাওয়া যায়নি। ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে নিহত পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”