
ছারছীনা দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.) বলেছেন, একজন মুমিন মুসলমানের জীবনের সঙ্গী হল তার নেক আমল। আমরা ক্ষনিকের জন্য এই দুনিয়ায় এসেছি। যখন ডাক আসবে আমাদের চলে যেতে হবে।
যতক্ষণ আমরা দুনিয়াতে আছি আল্লাহর দাসত্ব, গোলামী করে যেতে হবে। ইবাদত বন্দিগী, সমাজ সেবা যা কিছু হবে তা একমাত্র আল্লাহর জন্য। সদা সর্বদা আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। আল্লাহর জমিনে কোন প্রকার নফরমানি করার অধিকার কারও নেই। আল্লাহপাক জ্বিন এবং ইনসানকে তার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ পাকের ইবাদত করে তাকে খুশি করে যদি আমরা পৃথিবী থেকে যেতে পারি তাহলেই আমরা সফল হব।
দুনিয়াবী অর্থ, ক্ষমতা, মোহ এগুলো সাময়িক। এগুলো শুধু কিছু সময় আমাদের আনন্দ দিচ্ছে। চিরমায়া ভরা যে শান্তি থাকবে সেই জান্নাতে যেতে হলে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। সকল মুসলমানদের প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা আল্লাহর ইবাদত করেন, আমরা আল্লাহর দাসত্ব করে তার গোলাম হতে চাই। দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী আপনি ব্যবসা, রাজনীতি, চাকরি, সমাজনীতি যাই করেন না কেন জবাবদিহীতার জন্য একদিন সকলকে আল্লাহর সামনে দাড়াতে হবে। সমাজে ফেতনা ফ্যাসাদ ভরে গেছে এগুলো দুর করে সকলের মধ্যে ভাল সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে।
যে লোকটা , মদ খায়, সুদ খায়, হারাম গ্রহণ করে সেরকম লোকটাকে দ্বীনের পথে নিয়ে আসতে হবে। সারাদেশে আমাদের দরবারের পক্ষ থেকে বহু দীনিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আগামীতে দেশের প্রত্যেকটি এলাকার গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত দীনিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা আমাদের আছে। আমাদের সাথে কারো মতের অমিল হতে পারে কিন্তু সেই লোকটির সাথে তর্ক নয় তাকে বুঝিয়ে আমাদের পথে আনতে হবে। নবীজির তরিকা হল সুন্নতি তরিকা আমরা সেই তরিকা মেনে চলবো। পীর সাহেব সোমবার যোহর সনামাজ বাদ ছারছীনা দরবার শরীফের তিন দিনব্যাপী ১৩৫ তম ঈছালে ছাওয়াব মাহফিলের আখেরী মুনাজাত পূর্ব বক্তব্যে এসব বলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল ওয়াহাব আস-সাইদানী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে মাহফিল ময়দানে এসে মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
তিনদিন ব্যাপী মাহফিলে বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, বাংলাদেশ দ্বীনিয়া মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ মুহা. শরাফত আলী, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ড. মুফতি মাওলানা কাফিল উদ্দীন সরকার ছালেহী, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত জামেয়া-এ-নেছারীয়া দ্বীনিয়ার মুদীর মাওলানা মো. মাহমুদুল মুনীর হামীম, দারুন্নাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসার মুফতি মাওলানা ওসমান গণি ছালেহী, মাওলানা মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদ সহ দেশ বরেণ্য ইসলামী চিন্তাবীদগন মুল্যবান ওয়াজ নসিহত করেন। এদিকে মাহফিলে অংশগ্রহনের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগন লঞ্চ, বাস, ট্রলার সহ বিভিন্ন বাহনে করে এসে মাহফিল ময়দানে সমবেত হয়।
আখেরী মোনাজাতে অংশ নেয়া লাখো মসল্লিরা একসময় মাহফিলের ময়দান ছাড়িয়ে আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। সবশেষে মুসলিম উম্মাহ, দেশের শান্তি কামনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন পীর সাহেব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন।