
ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইজারাদারের অতিরিক্ত খাজনা আদায়, নানা হয়রানী ও অনিয়মের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার বিকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা এক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। বাজারের কাঁচা বাজার সংলগ্ন বালুর মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কাপাসিয়া বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক মোঃ আফজাল হোসাইন বেপারীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম শাহীনের সঞ্চালনায় উন্মুক্ত আলোচনায় বাজার বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীরা তাদের উপর ইজারাদারের লোকজনের নানা হয়রানী, জুলুম ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন। শাক সবজি বিক্রেতা মো. ইলিয়াস বলেন, বর্তমান ইজারাদারের লোকজন সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ হারে তাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করে থাকেন।
কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত খাজনা দিতে আপত্তি করলে তাদের সংঘবদ্ধ বাহিনী এসে হুমকি ধমকি এমনকি মারধর পর্যন্ত করেন। তাছাড়া তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে যত্রতত্র নতুন করে ব্যবসায়ীদের বসিয়ে জন সাধারণের চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা তৈরি করে থাকে । তৈরি পোষাক ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান লিটন বলেন, একজন ব্যবসায়ী তার সমস্যার কারণে যদি এক-দুইদিন দোকান বন্ধ রাখেন তবে দোকান পর পরই তার কাছ থেকে বন্ধ দিনগুলোর খাজনা দিতে বাধ্য করা হয়। এ জাতীয় বিষয় কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ীরা আগে কোনোদিন দেখে নি। তাই তারা বাজার ব্যবসায়ী সমিতি ও প্রশাসনের কাছে দ্রুত এ বিষয়গুলোর প্রতিকার চান।
এ সময় ব্যবসায়ীদের এসব দুর্ভোগ দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়ে এবং তাদের সাথে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীর সম্পর্ক নেই দাবি করে বক্তব্য দেন সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেন আরজু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজগর হোসেন খান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ফরিদুল আলম বুলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ফরিদ শেখ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ইমরান হোসেন শিশির প্রমুখ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ইজারা আদায় তদারককারী মাহবুব হোসেন বাবু বলেন, গত সময়ের ইজারাদারের তুলনায় তিনি বেশ কম খাজনা আদায় করছেন। বিশেষ করে ফল বিক্রেতারা আগে দৈনিক খাজনা দিতেন ৮০ টাকা, এখন তিনি নিচ্ছেন ৬০ টাকা, মুরগি বিক্রেতারা আগে খাজনা দিতেন ১০০ টাকা, তিনি নিচ্ছেন ৫০ টাকা। মাংস বিক্রেতারা আগে দিতেন ৮০০ টাকা, তিনি নিচ্ছেন ৭০০ টাকা।
আর ব্যবসায়ীরা তাদের বন্ধের দিন দখলকৃত জায়গাতে অন্য লোকদের মালামাল বিক্রির সুযোগ দিলে তাদের কাছ থেকে ওই দিনের খাজনা নেওয়া হবে না। তাছাড়া নতুন করে কাপাসিয়া বাজারে তিনি একটি দোকানও বসাননি। তাই টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।