
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বোরোধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষ হতে না হতেই বোরোধান চাষাবাদের প্রস্তুতি হিসেবে বীজতলা তৈরি কাজে শুরু করেছেন বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা। এবারে আমন ধানের দাম ভালো পাওয়ায় বোরোধান চাষের আগ্রহ বেশি বলে জানান তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নে হাইব্রিড, উফসি ও স্থানীয় জাতের বোরোধানের বীজতলা তৈরির লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩’শ ৬ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১২’শ ৪৫ হেক্টর। বোরো চাষাবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার ৫,শ ৩০ হেক্টর। যা চলমান রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৮’শ ৪৫ মেট্রিকটন। এছাড়া বোরো চাষিদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া অব্যহত রয়েছে।
সরেজমিন উপজেলার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকদের বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কর্ম ব্যস্ততা এখন চোখে পড়ার মত। কেউ বীজতলায় সেচ দিচ্ছে, কেউ লাঙ্গল দিয়ে, কেউবা কোদাল দিয়ে বীজতলা চাষ করছে আবার মই দিয়ে বীজতলা সমান করছেন। অনেক চাষী অঙ্কুরিত বীজ ধানগুলো বীজতলায় ছিটাচ্ছে (বপণ করছেন)। এমন দৃশ্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখতে পাওয়া গেছে। বীজতলার জন্য সাধারণত এসব নিচু ও খাল বিলের জমি নির্বাচন করা হয়ে থাকে। শুষ্ক মৌসুম বা নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এসব নিচু জমি ও বিলের পানি শুকিয়ে যায়। ঠিক তখনই শুরু হয় বীজতলা তৈরির এই মহোৎসব। কৃষকরা জানায়, আগে বীজ বপণ করতে পারলে ধানের চারা সতেজ সুন্দর হয়। আগাম বীজতলার চারা রোপণ করলে ধানের ফলন ভালো হয়।
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের হারুনেফড়া এলাকার সফল চাষি আশরাফ আলী জানান, প্রায় ৫ বিঘা জমিতে বোরো চাষের জন্য ৭কেজি বীজধানের বীজতলা তৈরি করছেন। আবহাওয়া অনুকুল থাকলে বোরোর চারা অনেক ভালো হবে ফলনও দ্বিগুণ হবে।
হোকডাঙ্গা বকশি পাড়া এলাকার রিয়াজল মিয়া জানান, ৫০ শতক জমির জন্য ৮ কেজি ব্রি-ধান ৭০ ও ব্রি-ধান ১০০ জাতের বীজ ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে চারা অনেক ভালো হবে। চারা ভালো হলে ধানের ফলন অনেক ভালো হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন বলেন,
উপজেলায় ৪ হাজার ৮’শ জন কৃষককে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে কৃষি প্রণোদনার ধান বীজ বিতরণ শেষ হবে। তাছাড়া কৃষকরা পছন্দমত বীজ ক্রয় করেছেন। ইতিমধ্যে কৃষকেরা তাদের বীজতলা তৈরির কাজও অনেকটা শেষ করেছেন।