
কুড়িগ্রামের উলিপুরে চলতি রবি মৌসুমে রোপা আমন ধানের ফলন নির্ধারণের জন্য উলিপুর পৌরসভায় ব্রি ধান-৭৫ এর নমুনা শস্য কর্তন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জাতের ব্রি ধান চাষাবাদ করেছেন এ উপজেলায়। ফলন একটু কম হলেও দামে বেশি পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় রোপা আমনের লক্ষ্য মাত্রা ২৪ হাজার ৩’শ ১০ হেক্টর। যা অর্জিত হয়েছে ২৪ হাজার ৩’শ ৫০ হেক্টর। যা ৪০ হেক্টর বেশি অর্জিত হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ৭৭ হাজার ৬’শ ৭৭ মেট্রিক টন। এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমন চাষিদের বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই পোকামাকড় নিধন সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া অব্যহত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে পৌরসভার সরদারপাড়া এলাকায় ফসলের ফলন নির্ণয়ের লক্ষ্যে এই নমুনা শস্য কর্তন করা হয়েছে। এ সময় কৃষক লাবু শাহার জমিতে ব্রি ধান-৭৫ এর নমুনা শস্য কর্তন করে হেক্টর প্রতি ৩.৩১৬ মেট্রিক টন ফলন উৎপাদন পর্যবেক্ষণ করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন। এছাড়াও ব্রি ধান-১০৩, ব্রি ধান-৮৭ ও ব্রি ধান-৯৫ চাষাবাদ করেছেন এ এলাকায়। আগাম জাতের ধান কর্তন করে রবি শস্যের চাষ করবেন কৃষকেরা।
এ বিষয়ে কৃষক লাবু শাহা বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সওকত আলীর নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এছাড়া রোপা আমন ধানের ফলন বাছাইয়ের জন্য প্রায় ৫ একর জমিতে ব্রি ধান-৭৫ এর চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শে ফলন ভালো হওয়ায় অনেক খুশি কৃষক লাবু শাহা।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, রবি মৌসুমের রোপা আমন ধানের প্রত্যেকটি জাতের নমুনা শস্য কর্তন করে অত্র পৌরসভার ধানের গড় ফলন নির্ধারন করা হয়েছে। এখানে রোপা আমনের ব্রি ধান-৭৫ জাতের ভালো ফলন হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উলিপুর এম এ মতিন কারিগরি ও কৃষি কলেজের শিক্ষার্থী আলতাফ মিয়া, নাজমুল ইসলাম, আলফাজ মিয়া ও শ্রী ধ্রুব সরকার সহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকবৃন্দ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন জানান, উপজেলায় এখনও একদিকে রোপা আমন চাষের কার্যক্রম চলছে। এ কার্যক্রম শেষ না হতেই আমন কর্তন শুরু হয়েছে। এ আগাম জাতের আমন চাষ অনেক লাভজনক। আগাম জাতের আমন চাষে একদিকে উৎপাদিত ধানের দাম বেশি থাকে। আবার কাচা খড়ের চাহিদা থাকে বাজারে। খড় বিক্রি করে উৎপাদন খরচ মেটাতে পারেন কৃষকেরা। ধান বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করতে পারেন। আবার সময় মত রবি শস্যের চাষাবাদ করতে পারেন কৃষকেরা বলে জানান তিনি।