উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ৮ নভেম্বর ২০২৫ , ৪:৪০:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে দ্বিগুণ বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা বাজার মনিটরিং এর দাবি জানান। গত সপ্তাহে পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৫৫ টাকা বিক্রি করলেও তা আজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত। এদিকে পাতা পেঁয়াজ বাজারে এলেও তা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা। পাতা পেঁয়াজ বাজারে আমদানি হলেও তার কোন প্রভাব পরছেনা শুকনো পেঁয়াজে জানান বিক্রেতারা। এছাড়াও অন্যান্য সবজি বেগুন, আলু, সিম, কপি, পটোল ও ধনে পাতার দাম বেশি থাকলেও কিছু কিছু সবজির দাম কিছুটা কমেছে।
উলিপুর পৌর বাজারের আড়তদার পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রি করছেন ৯০ টাকা, খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। মরিচ বিক্রি করছেন ৬৫ টাকা, খুচরা বিক্রেতা তা বিক্রি করছেন ৮০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা খুচরায় বিক্রি করছেন ৫০ টাকা ও ধনেপাতা ১০০ টাকা খুচরায় তা বিক্রি করছেন ১৩০ টাকা। নানা ভাবে পেঁয়াজ, মরিচ, বেগুন ও পটোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ নেই স্বস্তিতে। তবে স্থানীয় ভাবে আমদানি না থাকায় সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।
সরেজমিন সোমবার (৮ নভেম্বর ) সকালে উলিপুর পৌর সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা পাইকারদের কাছে বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ৪০ টাকা তা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, আলু দেশি ১৮ টাকা খুচরায় ২৫ টাকা, আলু হলান্ড ১৪ টাকা খুচরায় ২০ টাকা, শসা ৩০ টাকা খুচরায় ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬৫ টাকা খুচরায় ৮০ টাকা, করলা ৪০ টাকা খুচরায় ৫০ টাকা, দেশি পিয়াজ ৯০ টাকা খুচরায় ১১০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা খুচরায় ৩০ টাকা, পটল ৬০ টাকা খুচরায় ৭০ টাকা, রসুন ৫৫ টাকা খুচরায় ৭০ টাকা, আদা ১৩০ টাকা খুচরায় ১৪০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩০০ টাকা খুচরায় ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, ঢেড়স ৪৮ টাকা খুচরায় ৬০ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা খুচরা ৪৫ টাকা, কদোয়া ৩৫ টাকা খুচরা ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা খুচরা ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা খুচরা ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ছোট বড় ভেদে ২০ থেকে ২৫ টাকা খুচরায় ২৫ থেকে ৩৫ টাকা মুখি কচু ২০ টাকা খুচরায় ৩০ টাকা, মূলা ২৫ টাকা খুচরায় ৩০ টাকা, কপি ৫০ টাকা খুচরায় ৬০ টাকা, পাতা কপি ৫০ টাকা খুচরায় ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিচ ৩০ টাকা খুচরায় ৪০ টাকা, শশা ২৫ টাকা খুচরায় ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শাক-সবজির বাজার দর এমন ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বাজার মনিটরিং এর দাবী জানান ক্রেতারা।
পৌর বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা জলিল মিয়া (৫৫), জানান, গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কম ছিল। পাইকেরিতে কেজিতে ক্রয় করেছি ৫৫ টাকা তা বাজারে খুচরায় বিক্রি করেছি ৭০ টাকা। এখন দ্বিগুন দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকেরিতে ক্রয় করছি ৯০ টাকা খুচরায় তা বিক্রি করছি ১১০ টাকা। কাচা বাজারের আরদ থেকে বেশি দামে নিয়ে এসে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এতে পেঁয়াজ বেচা-কেনা অনেক কম হয়েছে। প্রয়োজনের চাহিদার তুলনায় কম কিনেছেন ক্রতারা। তিনি আরও বলেন, সবজি সহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলে ক্রেতা কমে যায়। ক্রেতা কমে গেলে আয় কম হয় যা দিয়ে সংসার পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে যায়। এতে করে প্রতিদিনেই ঘাটতি থেকেই যায়।
থেতরাই ইউনিয় থেতরাই বাজারের খুচরায় সবজিত বিক্রেতা জাবেদ মিয়া বলেন, গত কয়েকদিন আগে পেঁয়াজের বাজার কম ছিলো। এতে করে আমরা বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে পেয়েছি। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রি অনেক কমে গেছে। বিক্রি কম হওয়ায় লাভ কম হচ্ছে।
পৌর বাজারে সবজি নিতে আসা গৃহবধূ ছালমা, জাহানারা ও আরজিনা বলেন, অনেক ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি রয়েছে। কাঁচা বাজার কিছু কিছু মানুষের হাতের নাগালে থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষের হাতের লাগালে নেই। গত সপ্তাহের চেয়ে আজ আজ পেঁয়াজের দাম দ্বিগুন হয়েছে। গত সপ্তাহে পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা আজ তা বাড়িয়ে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। এছাড়া বেগুন, পটোল, ধনেপাতার দাম অনেক বৃদ্ধি রয়েছে।
সবজি বাজারের কাচা মরিচের আড়তদার মাহবুবর রহমান বলেন, গত সপ্তাহে পেঁয়াজের বাজার দর কম ছিলো। এ সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। দাম বৃদ্ধির কারণ তিনি বলেন, হঠাৎ করে মোকাম গুলোত আমদানি কমে যায়। ফলে দাম বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া স্থানীয় ভাবে যে পেঁয়াজ বাজারে আসে তা দিয়ে চাহিদা পুরন করা সম্ভব হয়না। তবে স্থানীয় ভাবে পেঁয়াজ আশা শুরু হলে তখন দাম কমতে শুরু হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন বলেন, স্থানীয় ভাবে পেয়াজের আমদানি না থাকায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় ভাবে পেঁয়াজ সহ অন্যান্য সবজির আমদানি শুরু হলে দাম কমে আসবে। এছাড়া স্থানীয় ভাবে যে সকল সবজি চাষ হয় তাতে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। কৃষকদের বেশি বেশি করে সবজি চাষের পরামর্শ দেয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।











