
সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় শীতের চাদরে ঢেকে রেখেছে কুড়িগ্রামের উলিপুর। হিমেল হাওয়ার দাপটে জেঁকে বসেছে শীত। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের হত দরিদ্র মানুষজন। প্রয়োজন ছাড়া সকালে বাড়ির বাহিরে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার। যা এ বছরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তিনি আরও জানান, এরকম আবহাওয়া আরও কয়েকদিন থাকতে পারে।
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের হারুনেফড়া এলাকার কৃষক আশরাফ আলী বলেন, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বীজতলা কনকনে ঠান্ডা ও তীব্র শীতে চারাগুলো লালচে ও কোঁকড়ানো হয়ে যাচ্ছে। চারা ভালো না হলে ধান লাগানো সম্ভব হবেনা। বোরো ধানের চাষ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন।
একই এলাকার দিন মজুর আব্দুল হামিদ বলেন, প্রতিদিন কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে জীবীকা নির্বাহ করেন। হামিদ বলেন, ঠান্ডায় কাজ করতে ইচ্ছে করে না। কাজ না করলে পেটে ভাত যায় না। বউ-বাচ্চা নিয়ে কয়েক দিন থেকে খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। এ অবস্থা যে কতদিন চলবে আল্লাহ জানে।
এদিকে এবছর শীতের কারণে গত কয়েক দিন থেকে জ্বর, সর্দি, অ্যাজমা, হাঁপানি ও ডাইরিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বেড়েই চলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মেহেরুল ইসলাম বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। কিছু রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন আবার কিছু কিছু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উপজেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকতা খন্দকার ফিজানুর রহমান জানান, উপজেলায় বরাদ্দকৃত ২হাজার ৫শত ৫০টি শীতবস্ত্র বিতরণ চলমান রয়েছে।