
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াত ও বিএনপি। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে পৃথক দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরকে দায়ী করেছেন তারা।
বিকেল সাড়ে চারটায় উপজেলার চালিতাডাঙ্গা বাজারের ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিরাজগঞ্জ -১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সেলিম রেজা অভিযোগ করে বলেন, ‘ওয়াজ মাহফিলে জামায়াত বহিরাগত লোকজন ও বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছিল। এতে মুসল্লীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়। পরে অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। মাহফিলে বক্তব্য দিয়ে জামায়াত প্রার্থী শাহিনুর আলমকে মঞ্চ ছেড়ে দিয়ে আমি চলে আসি। আমার সাথে নেতাকর্মীরাও চলে আসে।’
হামলার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে সেলিম রেজা বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে যে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে এটা ঠিক নয়। হয়তো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন অথবা জামায়াত নিজেরাই এমন কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে বিএনপির সম্মান ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। জামায়াত প্রার্থী একজন ভালো লোক বলেই জানি। কীভাবে তিনি এই হামলার ঘটনায় আমাদের দায়ী করে এটা বোধগম্য নয়। আমরা জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ভোটের মাঠে জয়ী হবার লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।’
অপর দিকে বিকেল পাঁচটায় উপজেলার বরইতলা এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একই আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আমির মাওলানা শাহিনুর আলম। তিনি বলেন, ‘বিএনপি পরিকল্পিতভাবে তার ওপর ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’ লিখিত বিবৃতিতে বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এইসব বিএনপির লোকজনই আমার নেতাকর্মিদের ওপর হামলা করে আহত করেছে। এই হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। পাশাপাশি কাজীপুরের ভোটের মাঠ নিরাপদ চাই আমরা।’
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত ১১টার দিকে সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ি গ্রামে একটি ইসলামি জালসায় অতিথি হিসেবে যান বিএনপির প্রার্থী সেলিম রেজা ও জামায়াতের প্রার্থী শাহিনুর আলম। মঞ্চে একই সময়ে উপস্থিত ছিলেন তারা। অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে শাহিনুর আলমকে মঞ্চ ছেড়ে দিয়ে সেলিম রেজা মঞ্চ ত্যাগ করেন। পরে অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার পথে শাহিনুর আলম হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে স্থলবাড়ি ব্রিজ এলাকায় দ্বিতীয় দফা, সোনামুখী বাজার এলাকায় তৃতীয় দফার হামলায় জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। দলটির দাবি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন প্রায় ১৫ জন জামায়াত নেতাকর্মী। তাঁরা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।