প্রতিনিধি ১৫ নভেম্বর ২০২৫ , ৫:৩৭:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার অনুষ্ঠিত হলো সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদ আয়োজিত আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন ২০২৫। দেশ–বিদেশের লাখো আলেম উলামা, গবেষক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সম্মেলনে সমকালীন ধর্মীয় পরিস্থিতি, কাদিয়ানীদের নিষিদ্ধ ঘোষণাসহ ধর্মীয় বিশেষ আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কার্যক্রম আশংকাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবসহ নানা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাদিয়ানীদের প্রশ্নোত্তরভিত্তিক কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ছে। দেশের অনেক সাধারণ মানুষ এসব কনটেন্ট দেখে প্রকৃত তথ্য যাচাই করতে পারে না। ফলে অনেকেই বিভ্রান্তির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যদি কাদিয়ানীদের কোনো অনলাইন কনটেন্ট ভুল ব্যাখ্যার জন্ম দেয় এবং ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, তাহলে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সরকারের রয়েছে। জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষা ও সঠিক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে কাদিয়ানীদের প্ল্যাটফর্মের ওপর নজরদারি জরুরি হয়ে উঠেছে।” প্রয়োজনে তাদের ইউটিউব চ্যানেলগুলোকে বন্ধ করে দেওয়ার আহবান জানান তিনি।
বক্তৃতায় আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীন খতমে নবুওয়ত আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই আন্দোলন কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষার বিষয় নয়; এটি সমাজকে সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করার সংগ্রাম। বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এবং দৈনিক ইনকিলাব এই অবস্থানে অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”
এ ছাড়া তিনি ধর্মীয় বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক তথ্য যাচাই করা, বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের বিরুদ্ধে শিক্ষামূলক কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানান।
তিনি ডিজিটাল যুগে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনলাইন জগতে অজস্র তথ্যের মাঝে সঠিক-ভুল বিচার করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নজরদারি দরকার।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ মহাসম্মেলনে বক্তারা কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা সহ সমসাময়িক নানা চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে মুসলিম সমাজে ঐক্য, সহনশীলতা ও প্রকৃত ধর্মীয় জ্ঞান প্রচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।











