
সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে প্রশ্ন তোলায় এবিসি নিউজের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা মেরি ব্রুসকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) ওভাল অফিসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকের সময় এই ঘটনা ঘটে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই জানাচ্ছে, যুবরাজের নির্দেশেই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু ব্রুস যখন এ সম্পর্কিত প্রশ্ন করেন, ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ধরনের প্রশ্ন করে আমাদের অতিথিকে অস্বস্তিতে ফেলবেন না।’ তিনি প্রশ্নটিকে ‘ভয়ংকর, ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং একেবারে বাজে’ বলে মন্তব্য করেন। খাসোগি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘অনেকেই ওঁকে পছন্দ করত না। আপনি তাকে পছন্দ করুন বা না করুন—এ ধরনের ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটে।’ সৌদি এজেন্টদের হাতে খাসোগির নির্মম হত্যার পর যুবরাজের যুক্তরাষ্ট্র সফরে এটিই ছিল এমন প্রথম কথোপকথন। এরপর ব্রুস যখন জেফ্রি এপস্টিন-সম্পর্কিত নথি কেন প্রকাশ করা হয়নি—এ প্রশ্ন করেন, ট্রাম্প আবারও তীব্র ভাষায় তাকে অপমান করেন। তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন করা নিয়ে আমার আপত্তি নেই, সমস্যা আপনার আচরণে।’ আরও কঠোর সুরে যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় আপনি একজন ভয়ংকর রিপোর্টার। আপনার প্রশ্ন করার ধরনই আপত্তিকর।’ তিনি ব্রুসকে ‘জঘন্য মানুষ’ বলেও আক্রমণ করেন। এ পর্যায়ে শুধু ব্রুস নন, এবিসি নিউজকেও আক্রমণ করেন ট্রাম্প। নেটওয়ার্কটিকে ‘বাজে কোম্পানি’ উল্লেখ করে এর সম্প্রচার-লাইসেন্স বাতিলের দাবিও তোলেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে শীর্ষ সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক ব্রেনডান কারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঘটনার পর ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের মন্তব্যের নিন্দা জানায়। তারা খাসোগির হত্যাকে ‘সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ বলে বর্ণনা করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো সাংবাদিক হত্যার ঘটনাকে ছোট করে দেখা বা তার পক্ষে সাফাই গাওয়া বাস্তব জগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প এর আগেও সাংবাদিকদের প্রতি বিতর্কিত ভাষা ব্যবহার করেছেন। গত শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ব্লুমবার্গ নিউজের ক্যাথরিন লুসির প্রশ্ন বাধা দিয়ে তিনি বলেন, ‘চুপ! চুপ করো, পিগি।’ সাবেক মিস ইউনিভার্স অ্যালিসিয়া মাচাদোও দাবি করেছেন, ট্রাম্প অতীতে এ ধরনের অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন।
হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবারের ঘটনায় হতাশ ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ব্রুসকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার উচিত আবার গিয়ে শেখা—কীভাবে রিপোর্টার হতে হয়। আপনার কাছ থেকে আর কোনো প্রশ্ন চাই না।’