
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা এলেও এ সংক্রান্ত আইনের (অধ্যাদেশ) অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণভোট আইন হওয়ার পর এ নিয়ে কাজ শুরু করবো।
বুধবার বিকেলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের চতুর্থ দিনের সমাপনী বক্তব্যে একথা বলেন সিইসি। সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের বারবার জানতে চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিত তুলে ধরে সিইসি বলেন, গণভোট নিয়ে আইন (অধ্যাদেশ) হওয়ার পর করণীয় বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এসময় সংলাপে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপিসহ ছয়টি দলের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। এ নিয়ে চার দিনে ৪৮টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করা হলো।
এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইদিনে করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, গণভোটের কথা এসেছে। রেফারেন্ডামটা-কীভাবে ভোট করবো। আগে আইনটা তো হতে হবে। রেফারেন্ডামের একটা ল’- ওখানে বলা আছে, ঘোষণার মধ্যে, অর্ডারের মধ্যে একটা আইন হবে রেফারেন্ডাম যেটা ইলেকশন কমিশনকে অথরাইজড করবে। প্রেসক্রাইব করে দেবে-কি বিষয়ে গণভোট হবে, কিভাবে হবে ইত্যাদি।
সবশেষ ১৯৯১ সালের গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি জানান, ওই আইনটা তো হতে হবে। ওই আইনটা হলে তখন আমার একটা দায়বদ্ধতা আসবে এ ব্যাপারে বক্তব্য দেওয়ার। আমি তো এখনও এ ব্যাপারে বক্তব্য দেওয়ার। কিন্তু রাজনীতিবিদরা অনেক জিজ্ঞাসা করছেন-কিভাবে করবেন, কিভাবে এগুলোর জবাব দেবে, কতটা বাক্স করবেন। এগুলোর সব চিন্তা, এক্সারসাইজ শুরু করবো আমরা ওই আইনটা হওয়ার পর। এর আগে তো আমি জানি না-হোয়াট কোর্স ইট উইল টেক। আইনটার পরে করবো।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কম অভিজ্ঞা হয়নি। রাজনৈতিক হিট ওয়েব বুঝি। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে সময় সীমাবদ্ধতা ঠিক নয়।
সহাস্যে সিইসি বলেন, ‘কিছু মনে করবেন না, রাজনীতিবিদদের টাইম মেনটেইন করানো মুশকিল। আপনাদের কাজই তো বক্তব্য দেওয়া।’
৭৩ বয়সী সিইসি সৌভাগ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বয়স হওয়ার পর থেকে এদেশের রাজনীতিবিদদেরও দেখে এসেছি। ছাত্রাবস্থায় মান্না ভাইকে পেয়েছিলাম নেতা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্যারের (মঈন খান) সাথে তো চাকরিই করেছি। রাজনীতিবিদদের সাথে ডিল করতে করতে এবং এ দেশের ইলেকশন দেখতে দেখতে, পাকিস্তান আমল থেকে দেখে এসেছি, বেসিক ডেমোক্রেসি থেকে সব কিছু। অভিজ্ঞতাও কম হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘ইলেকশন নিয়ে আমাদের কম অভিজ্ঞতা হয়নি। যথেষ্ট অভিজ্ঞতা হয়েছে। শুধু আমাদের উচিত হবে-এদেশের আর্থ সামাজিক, রাজনৈতিক, সামাজিক বাস্তবতাটা মেনে নিয়েই আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে। রাজনৈতিক বাস্তবতা কী রাজনীতিবিদরা জানেন।
এ এমনএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি আর খোলাসা করে বলতে চাই না। এগুলোর হিটওয়েব আমি ফিল করি এখানে বসে। রাজনৈতিক বাস্তবতার হিটওয়েবটা আমাকে ফিল করতে হয়। কারণ, এটা খুব মসৃণ বাস্তবতা নয়। এবং সামাজিক বাস্তবতাও সেরকম। এগুলো বিবেচনায় নিয়েই আমাদের আগাতে হচ্ছে।’
বিরাজমান পরিস্থিতিতে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাস্তবতার বিবেচনার কথাও তুলে ধরেন সিইসি। রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্য করেন তিনি বলেন, ‘এমন নয় যে কোনো নির্বাচন কমিশনের পক্ষে, আপনাদেরও যদি এখানে বসিয়ে দিই, এগুলোকে ইগনোর করে যাওয়া সম্ভব নয়। বাস্তবতা যেটা আছে সেটা বিবেচনায় নিয়ে স্মার্টলি ইউ হ্যাভ টু ট্রাই টু ওভার কাম দ্য চ্যালেঞ্জেস। একদম ইগনোর করে যাওয়া সম্ভব না বাস্তবতাটা।’
তিনি জানান, সবদিক থেকে বাস্তবতা আছে। সামাজিক বাস্তবতা। সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে আমরা সেই স্লো এ্যান্ড স্টিডি ওয়েতে, কম কথায় কাজ বেশি, কথা কম কাজ বেশি সেইভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ সাকসেফুলি আগাতে পেরেছি।
তিনি বলেন, গত বছর সংস্কার কমিশনের কাজ শুরু হয়। আর এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় ঐকমত্য কমিশন। অক্টোবরে তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এখনও সুপারিশ গণভোটের অপেক্ষা। এরই মধ্যে সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলেছে। সবকিছু যদি ঐকমত্য কমিশনের জন্য বসে থাকতাম, আমি জানি না ইলেনকশন আদৌ করতে পারতাম কিনা। এখনও তো চূড়ান্ত হয় নি।’
এদিন দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি – বিজেপি, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাসদ মার্কসবাদীর সঙ্গে সংলাপ করেছে ইসি।