
কাফকো, টিএসপি, ড্যাব, ঘোড়াশাল থেকে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত সার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) নিজস্ব ট্রাক। সরকারি এসব মালামাল বহন করে সেবা খাতে অবদানের পাশাপাশি রাজস্ব আয়ে ভূমিকা রাখছে বিআরটিসি। চট্টগ্রামের কাফকো, টিএসপি, ড্যাব ও নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে সার নিয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাফার গুদামে পৌছে দিয়ে আবার ওই এলাকা থেকে চাল, ভুট্টা, আলু নিয়ে ঢাকা, ফেনি, চট্রগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় পৌছে দিয়ে কৃষিতে অবদানের পাশাপাশি বাড়তি রাজস্ব আয়ে ভুমিকা রেখে চলছে চট্রগ্রাম ডিপোর ট্রাক।
কিন্তু বর্তমান ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান ডিপোতে যোগদানের পর উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য বোঝাই গাড়ি লোডবিহীন (খালি) দেখিয়ে রাজস্ব আত্মসাত করছেন এমন অভিযোগ করছেন ওই রুটের চালকেরা। চালকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা পণ্য বোঝাই গাড়ি (লোড গাড়ি) টাঙ্গাইলের করটিয়া এস এস পাম্পে থাকা চেকার (প্রতিনিধি) জসিমের মাধ্যমে লোডবিহীন (খালি) দেখানো হয় এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি মাওয়া পাম্পে থাকা চেকার (প্রতিনিধি) শফিকে খালি দেখানোর জন্য ম্যাসেজে পাঠানো হয়।
যে সকল গাড়ি লোড বিহীন (খালি) দেখানো হয় ওই সকল গাড়ির রাজস্ব চালকদের কাছ থেকে টাঙ্গাইলের প্রতিনিধি জসিম গ্রহণ করে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ম্যানেজারের কাছে পৌঁছে দেন। চালকরা জানিয়েছেন, দৈনিক ১০/১২ টি পণ্য বোঝাই গাড়ি খালি দেখানো হয় যার দৈনিক রাজস্ব আসে লাখ টাকার উপরে।
এই টাকা ডিপোর কোষাগারে জমা না হয়ে ম্যানেজারের পকেটস্থ হচ্ছে। এভাবে লোডবিহীন (খালি) গাড়ি দেখিয়ে প্রতিমাসে রাজস্ব আত্মসাৎ করছেন ৩০ লাখ টাকার উপরে যা বছরে পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে তিন কোটি টাকার উপরে। বিপুল অঙ্কের এই রাজস্ব আত্মসাতে পছন্দের লোক দিয়ে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বাহিনী। এই বাহিনীর কাছে জিম্মি পুরো ডিপো। ডিপোর একাধিক চালক জানিয়েছেন, সিন্ডিকেট তৈরিতে বিভিন্ন ডিপো থেকে পছন্দের লোকদের বদলী করে নিজের ডিপোতে আনেন। দুর্নীতির দায় সিলেট ডিপোতে বদলী করা কারিগর-ডি জহিরুল ইসলামকে বদলী করে ষ্টোরের দায়িত্ব দেন।
অভিযোগ আছে ডিপোতে এ গ্রেডের সিনিয়র কারিগর থাকার পরও খুলনা ডিপো থেকে ডি ক্যাটাগরির কারিগর মুরাদ হোসেন কে বদলী করে এনে ফোরম্যানের দায়িত্ব দেন। এছাড়া সিন্ডিকেট শক্তিশালী করতে আপন দুই ভাইকে ইয়ার্ডের দায়িত্বে ও শ্যালক-দুলাভাইকে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এরাই চালকদের উপর খবরদারি সহ নানাভাবে ছড়ি ঘোরাচ্ছে অভিযোগ এক চালকের। নিজের পরিচয় গোপণ রাখার শর্তে ওই চালক প্রতিবেদককে জানান, ম্যানেজার কামরুজ্জামান ডিপোতে যোগদান করেই কাছের লোকদের সুবিধা দিতে এবং নিজের আখের গোছাতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজের লোক বসিয়ে বাণিজ্য শুরু করেন। চালকদের ডিউটি দেওয়া হয় টাকার বিনিময়ে। টাকা দিতে না চাইলে ডিউটি থেকে বিরত রাখা হয়। নিজের আখের গোছাতে ইয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চালক আনোয়ারের আপন ভাই ইলিয়াস কে চট্রগ্রাম বাস ডিপো থেকে লনে এনে ইয়ার্ডের দায়িত্ব দেন।
পরবর্তীতে ইলিয়াস ও আনোয়ারের আপন ভগ্নিপতি নবীকে ঢাকা ট্রাক ডিপো থেকে বদলী করে আনেন। এদের অনেকের বাড়ি ম্যানেজারের শ্বশুর বাড়ি এলাকায় বলে জানা যায়। মাসোয়ারায় প্রতিনিধি নিয়োগের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এক চালক ভোরের দর্পণের কাছে মাসোয়ারার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া মাসোয়ারা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় অন্যত্র বদলী করার অভিযোগ ও আছে ম্যানেজারের বিরুদ্ধে।
এ সকল বিষয়ের সত্যতা যাচাইয়ে মুঠোফোনে ম্যানেজার কামরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভোরের দর্পণকে বলেন, যাদের কে বদলী করে আনা হয়েছে তারা রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভালো ভুমিকা রাখছে। তাছাড়া অনেকে সুবিধা চায়, সবাইকে তো সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয় না। এদের কেউ কেউ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারে নেমেছে। লোড গাড়িকে খালি দেখিয়ে রাজস্ব আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে প্রতিবেদককে চট্রগ্রাম বেড়ানোর আমন্ত্রণ জানান।
তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা।