
চোট কি নেইমারকে খেলতে দেবে—সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল এটি। কিন্তু সব সংশয় দূর করে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার আবারও প্রমাণ করলেন নিজের মান। ৪ ডিসেম্বর ভোরে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ–তে জুভেন্তুদের বিপক্ষে সান্তোসের ৩–০ গোলের জয়ে তিন গোলই এসেছে তার পা থেকে—দৃষ্টিনন্দন এক হ্যাটট্রিক।
দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে (৫৬, ৬৫ ও ৭৩ মিনিট) তিনটি গোল করেন নেইমার, যার শেষটি ছিল পেনাল্টি থেকে। এর আগে ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল পিএসজির হয়ে ক্লেঁয়ারমন্তের বিপক্ষে করেছিলেন সর্বশেষ হ্যাটট্রিক। প্রায় ১৩৩৫ দিন পর হ্যাটট্রিকের স্বাদ পাওয়ায় তার উদযাপনও ছিল আলাদা। চলতি মৌসুমে বাঁ হাঁটুতে গুরুতর চোট পেয়ে বাকি ম্যাচগুলোতে না খেলার কথা ছিল নেইমারের। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছিল, লিগের শেষ তিন ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না। কিন্তু অবনমনের শঙ্কায় থাকা সান্তোসকে টেনে তুলতে তিনি ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নামেন—যেমন নেমেছিলেন ২৯ নভেম্বর স্পোর্টের বিপক্ষেও। সে ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি করেছিলেন এক অ্যাসিস্ট। ম্যাচ শেষে নেইমার জানান, দলকে বাঁচাতে প্রয়োজন হলে এবার নিজের চোট উপেক্ষাই তার একমাত্র পথ। নেইমারের দারুণ ফর্মে টানা দুই ম্যাচ জিতে অবনমন অঞ্চল থেকে আরও সরে গেছে সান্তোস। ৩৭ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৪৪ পয়েন্ট—তারা আছে টেবিলের ১৪তম স্থানে। ভিতোরিয়া ৪২ পয়েন্ট নিয়ে আছে ১৭তম অবস্থানে। অর্থাৎ আপাতত নিরাপদ হলেও সান্তোসের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শেষ ম্যাচে কী হয় তার ওপর। ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবোর তথ্য অনুযায়ী, নেইমার এখনো ব্যথা নিয়েই খেলছেন। বাঁ হাঁটুর মেনিসকাসে চোট থাকায় তাকে প্রতিরক্ষামূলক সহায়ক ব্যান্ডেজ পরে নামতে হচ্ছে। আসছে রোববার সান্তোস মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলবে ক্রুজেইরোর বিপক্ষে—জিতলেই শীর্ষ লিগে টিকে থাকা নিশ্চিত। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে নেইমার শেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে, যে ম্যাচে তিনি এসিএল ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর নিয়মিত খেলা হয়নি, এই মৌসুমেই চোট পেয়েছেন চারবার। ব্রাজিল মার্চের আগে কোনো ম্যাচ খেলবে না। মার্চের প্রীতি ম্যাচের পরই কোচ কার্লো আনচেলত্তি বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবেন। তাই সান্তোসের হয়ে এখনকার পারফরম্যান্সই নেইমারের সামনে নিজেকে প্রমাণ করার সবচেয়ে বড় সুযোগ।
মৌসুম শেষে সান্তোসে থাকবেন কি না—এ নিয়েও চলছে আলোচনা। জুভেন্তুদের বিপক্ষে ম্যাচের পর অ্যামাজন প্রাইম–কে নেইমার বলেন, “আমি জানি না। সত্যিই জানি না। আগে মৌসুম শেষ হোক, তারপর সিদ্ধান্ত নেব। তবে সান্তোসই আমার প্রথম পছন্দ।” ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা নিজের চোটযুদ্ধ নিয়ে বলেন, “একজন অ্যাথলেট হিসেবে শরীরের যত্নটাই আমার প্রথম অগ্রাধিকার। ক্যারিয়ারের ঝুঁকি নিয়ে কিছুই করি না। কিন্তু তারপরও চোট এসে যাচ্ছে। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর লড়ছি। আবার পুরোপুরি ফিরতে চেষ্টা করছি।”