
দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুর বাসীর নিকট বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই এলাকার নাতি হিসাবে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আবদার করেন। তিনি বলেন,“আমি দিনাজপুরের নাতি। বহু বছর পর নানী বাড়ী আসছি। নানী বাড়ীতে আসলাম, আপনারা কিছু তো খাওয়ালেন। তাহলে একটা জিনিস দিতে হবে আপনাদের। আমার বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।”
তিনি শনিবার বিকাল ৪টায় দিনাজপুর বিরামপুর সরকারী কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় নানীর জেলা দিনাজপুরবাসীর কাছে আবদার জানান নাতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দিনাজপুরকে সারাদেশ চিনে কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে। এই এলাকার বিখ্যাত লিচুকে সবাই চিনে। আমরা এই কৃষি প্রধান অঞ্চলকে কৃষির সাথে সম্পর্কিত শিল্প গড়ে তুলতে চাই। এই এলাকার বিখ্যাত লিচু প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানী করতে চাই। লিচু সংরক্ষণের জন্য হিমাগার তৈরি করা হবে। যাতে পরে লিচু বিদেশে রপ্তানী করতে পারি। দিনাজপুরে উৎপাদিত আম প্রক্রিয়াজাত করনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কোম্পানীকে দিনাজপুরে আনা হবে।
তিনি বলেন, যেই বাংলাদেশের আমার ভাইয়ের রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারবে। নিরাপদে চাকুরী করতে পারবে। নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। নিরাপদে নিশ্চিতে রাতে ঘরে ঘুমাতে পারবে। যেই বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, আদিবাসী, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান হই। আমাদেরকে সকলকে বিচার করা হবে আমাদের যোগ্যতা এবং মেধার ভিত্তিতে। আমাদের পরিচয়, আমাদের ধর্ম নয়। আমাদের পরিচয় আমাদের জাতে। আমাদের পরিচয় হবে মেধা দিয়ে।
আমাদের পরিচয় হবে আমাদের যোগ্যতা দিয়ে। আমরা এই রকম একটি বাংলাদেশ গড়ে চাই। আসুন আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেই বাংলাদেশের জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা জীবন উৎসর্গ করেছেন। জুলাই যোদ্ধারা নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। আসুন আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
আমরা অনেক আন্দোলন করেছি, গণতন্ত্র উদ্ধার করতে। এখন গণতন্ত্র উদ্ধারের পথ ধীরে ধীরে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে আমাদের পরবর্তী কাজ হবে এই দেশকে পুনর্গঠন করা। আজ এই নির্বাচনী জনসভায় আমি আমার রাজনৈতিক প্রতিপ সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম। তাতে কি জনগনের উপকার হবে। জনগনের কোন উপকার হবে না। জনগণের তখনই উপকার হবে যখন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা জনগনের জন্য এবং দেশের জন্য সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি।
জনগনের জন্য তখনই ভালো হবে দেশের জন্য যখনই ভালো হবে যখন আমরা জনগনের সমর্থন নিয়ে জনগনের সহযোগিতা নিয়ে জনগনের ভোট নিয়ে আমরা দেশ গঠনের কাজে হাত দিব। তখনই জনগনের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। কাজেই আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন আমাদের হাতে। আমরা যদি পরিশ্রম করি আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি আমরা যদি একসাথে থাকি আমরা সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।
তারেক রহমান বলেন, আমরা জনগণের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। জনগণের সমর্থন, ভালোবাসা ও জনগণের শক্তিতে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সাধারণ ও খেটে-খাওয়া মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি করতে পারবে।’
বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, আমার মা খালেদা জিয়া বলতেন, বাংলাদেশ ছাড়া তাঁর আর কোন ঠিকানা নেই। বিএনপি’র প্রতিটি নেতা-কর্মী বিশ্বাস করে, বাংলাদেশই তাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আর এ জন্য আমরা জনগণের সামনে এসে দেশের উন্নয়নের জন্য দাঁড়িয়েছি। আমরা জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, নিরাপদে পথে চলতে পারবে। যেখানে শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থা পাবে। যেখানে পড়াশোনা শেষে তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, বেকার থাকতে হবে না।’
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির পরিচালনায় নির্বাচনী জনসভায়, দিনাজপুর-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, দিনাজপুর সদর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও দিনাজপুর-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী একেএম কামরুজ্জামান,এবং জেলার ৬’টি সংসদীয় এলাকা ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।