
পলাতক ফ্যাসিস্ট ও তাদের বিদেশী প্রভুদের গুপ্ত টার্গেটেড হামলার মধ্য দিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে নির্বাচন বানচালের যে প্রচেষ্টা, সেটা কখনোই সফল হবে না। চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসনের সর্বরকম প্রস্তুতি রয়েছে এসব সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করতে।
সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যে যত বড় দাগী সন্ত্রাসী ও বাহিনীর লিডার হোন না কেন, প্রশাসনের হাত থেকে নিস্তার পাবেনা ইনশাল্লাহ। উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাসিব আজিজ বলেন, “চট্টগ্রাম মহানগরীতে পুলিশ বাহিনী ছাড়া অন্য কোনো বাহিনী থাকতে পারবে না। লুণ্ঠিত অস্ত্রের ৮০ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ অস্ত্র পাহাড়ি এলাকার বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপের হাতে চলে গেছে বলে তথ্য রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে এসব উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে।
সিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশ আর সাংবাদিক কখনো বন্ধু হইতে পারে না। এখানে পেশাগত দ্বান্ধিক একটা অবস্থান থাকবে। তবেই রাষ্ট্র তার সঠিক পথে পরিচালিত হবে। সাধারণ প্রশাসন, বিচারালয়, পুলিশ, সাংবাদিক সব একটা অ্যালাইনমেন্টে চললে দেশে বিপর্যয় ঘটে। গত ১৭ বছর সরকার সবগুলোকে একটা এলাইনমেন্টে চালাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিস্টের আখ্যা পেয়েছিলো।
পুলিশ সদস্যদের আচরণের বিষয়ে নিজের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি আমার সহকর্মীদের বলি, “ইউ মাস্ট বি ফার্ম ইন ইউর অ্যাটিটিউড, বাট ভেরি পোলাইট ইন ইউর বিহেভিয়ার। পুলিশিং উইথ আ স্মাইলিং ফেস। একজন সাংবাদিক বা সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে না।”
পুলিশ কমিশনার বলেন, আমাদের শহরে এই চেকপোস্ট আমরা বাড়িয়েছি, স্থায়ী চেকপোস্ট। থানাগুলো রেগুলারলি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ থেকে ১০ বার নিজেরা ফোর্স অফিসার দিয়ে চেকপোস্ট করতেছে। রেন্ডম চেকিং চলতেছে। যে এই সন্ত্রাসী, ভাড়াইট্টে খুনি, আওয়ামী লীগের দোসর যেগুলো আছে, এরা যে সমস্ত ভেহিকেল ইউজ করে এই সমস্ত ভেহিকেলগুলোর ওপর আমরা পার্টিকুলার এমফ্যাসিস দিয়ে ওগুলা থামাচ্ছি, আমরা চেক করতেছি। এতে করে এবং আমার ফোর্স অফিসার, আমরা নির্দেশ দিয়েছি নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কমিশনার থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত ম্যাক্সিমাম ফোর্স অফিসার রাস্তায় থাকবে। ডিউটিতে থাকবে। ব্যারাকে ঘুমানোর মতো ফোর্স আমরা রাখি নাই। স্ট্রাইকিং ফোর্স যখন যেখানে প্রয়োজন অল্প ছোটখাটো প্রয়োজন মতো রেখে বাকি সব ফোর্স কিন্তু আমরা এখন মাঠে নামায় দিছি। নির্বাচনের পরবর্তীতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বা এগুলা যে বিষয় থাকে, সেগুলো মোকাবেলা করার জন্য নির্বাচনের পরেও সাত দিন থাকবে। এখন থেকেই কিন্তু আমার ম্যাক্সিমাম ফোর্স এখন ডেপ্লয়েড অবস্থায় আছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এবং তাদের বিদেশী প্রভু যারা আছে তাদের জন্য এই নির্বাচনটা কিন্তু একটা লিটমাস টেস্ট হয়ে গেছে। এই টেস্টে তারা যাতে ফেইল করে সেজন্য আমাদেরকে যা করার করতে হবে। এই টার্গেটেড কিলিংগুলার ব্যাপারে আমাদের আসামি ধরা অব্যাহত আছে, অস্ত্র উদ্ধার করা অব্যাহত আছে। কিছুক্ষণ আগেই এই একজন বড় আসামি অস্ত্র উঁচিয়ে কোথায় যেন গুলিবাজি করতে গিয়েছিল, তার অস্ত্র গুলিসহ ধরা পড়েছে। বাকি আসামি এবং অস্ত্র উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আশা করি আমরা বিকাল বা সন্ধ্যার মধ্যে আপনাদেরকে বেশ কয়েকটা সুখবর ইনশাআল্লাহ দিতে পারব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে ও চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটনের সঞ্চালনায় এই সভায় বক্তব্য রাখেন পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, মো. হুমায়ুন কবির, দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান মুস্তফা নঈম, প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ ও কার্যকরী সদস্য সালেহ নোমান প্রমুখ।
সভায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।