
রূপগঞ্জের পূর্বাচলে এবার বসছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে পূর্বাচল উপশহরের ৪নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে(বিবিসিএফইসি) এ মেলা বসছে।
আগামী ১জানুয়ারি সকাল ১০টায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মেলার উদ্বোধন করবেন। ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলের এক্সিবিশন সেন্টারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত স্টল ও প্যাভিলিয়নের কারিগররা।
এ ব্যাপারে গতকাল ২৮ডিসেম্বর রবিবার এক্সিবিশন সেন্টারে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ডিরেক্টর জেনারেল বেবি রানী কর্মকার, সচিব তরফদার সোহেল রহমান, পুলিশ, ডিএসবি, এসবি, আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে হাতুড়ি-পেরেকের টুংটাং শব্দ। শ্রমিকদের ব্যস্ত ছোটাছুটি। লোহার ফ্রেমে ঝালাইয়ের কাজে সময় পার করছেন তারা। মেলায় নিজ নিজ স্টল সাজানোর জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা।
স্টলের কাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে। থেমে নেই প্যাভিলিয়নের রং, আলোকসজ্জা ও নান্দনিক সাজসজ্জার কাজ। উদ্বোধনের আগেই সব ধরণের স্টলের নির্মাণকাজ সমাপ্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাত-দিন স্টল নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কারিগররা। শুরু থেকে দোকানপাট সাজিয়ে পুরোদমে বেচাকেনা করতে পারবেন বলে দাবি দোকান মালিকদের। দর্শনার্থীদের জন্য ই-টিকিটিং সুবিধা চালু থাকবে। প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। শিশুদের জন্য ২টি শিশুপার্ক রাখা হয়েছে। মেলায় নকল ও নি¤œমানের পণ্য রোধে কড়া নজরদারি থাকবে।
এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৩২৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, সিঙ্গাপুর ও আফগানিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ মেলায় অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’, যেখানে দর্শনার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রার নানা দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন। মেলার ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে বিশেষ বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু থাকবে। পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং সেবাও ব্যবহার করা যাবে। দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে ই-টিকিটিং সুবিধা।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারোর সচিব তরফদার সোহেল রহমান, মেলায় প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে কাটতে পারবেন টিকিট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে গেট ইজারাদারদের পক্ষ থেকে থাকবে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক। দর্শনার্থীদের বসার জন্য থাকবে ৩টি সিটিং জোন। ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য থাকবে বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক বুথ। থাকছে একটি পুলিশ ক্যাম্প।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর(ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, মেলায় যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৯ শতাধিক পুলিশ। থাকবে একাধিক মোবাইল টিমসহ বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট।