প্রতিনিধি ২৫ নভেম্বর ২০২৫ , ১:১৪:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা সারা দেশে তিন দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) পর্যন্ত। এতে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যত বন্ধ রয়েছে।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ‘ঐক্য পরিষদ’-এর নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় বসলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না পাওয়ায় তারা এই কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেরা বেগম জানান, তাদের তিন দফা দাবি হলো—
১) সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ হিসেবে ধরে ১১তম গ্রেড প্রদান,
২) শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা,
৩) ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা দূর করা।
তিনি বলেন, “বিভিন্ন সময় আশ্বাস মিললেও কোনো বাস্তব পদক্ষেপ না থাকায় আমরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি।”
সংগঠনের আহ্বায়ক শাহীনূর আকতার রাতের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সরকার দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও তাতে বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি। তিনি বলেন, গত ১ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে অগ্রগতি না হওয়ায় তারা কর্মসূচি জোরদার করছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, দাবি পূরণ না হলে ১১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন এবং লাগাতার অনশনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডের শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করে। তবে এতে সহকারী শিক্ষকরা নিজেদের প্রতি অবিচার হয়েছে বলে মনে করছেন।
তাদের অভিযোগ, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, নার্স, কৃষি কর্মকর্তা, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি নিয়েই ১০ম গ্রেড পাচ্ছেন। অথচ প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি সিএনএড, বিপিএড বা বিটিপিটি কোর্স সম্পন্ন করেও এখনো ১৩তম গ্রেডেই রয়ে গেছেন।

















