
দক্ষিণ আফ্রিকায় এই সপ্তাহের শেষের দিকে জি২০ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণমুক্তি নিশ্চিত এবং বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবেলা করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে তাদের জি২০ এজেন্ডা নিয়ে মতবিরোধে জড়িত এবং বহুপাক্ষিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চাদপসরণের মধ্যে শীর্ষ সম্মেলন এড়িয়ে যাচ্ছেন।
জোহানেসবার্গ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ট্রাম্পের এই অনুপস্থিতি বিশ্ব অর্থনৈতিক শৃঙ্খলায় প্রভাব ফেলতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে। জি২০-এর ১৯টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম শক্তিশালী দেশ। এই দেশসমূহ বিশ্বব্যাপী মোট জিডিপির প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়নও জি২০-তে অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বর্জন ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ৩০ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের সরকারি প্রতিনিধিদল না পাঠানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছেন এবং একাধিক বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর একতরফা শুল্ক আরোপ করেছেন। সাব-সাহারা আফ্রিকাসহ দক্ষিণ আফ্রিকার ওপরও ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য জি২০ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘সংহতি, সমতা, স্থায়িত্ব’। এর মাধ্যমে ঋণ ত্রাণ এবং অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় সহায়তা করা হবে। উল্লেখ্য, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফেব্রুয়ারিতে জি২০ মন্ত্রীদের প্রথম বৈঠকে যোগদান করেননি এবং সে সময় এটিকে ‘মার্কিন-বিরোধী’ দাবি করা হয়।