
প্রায় বারো মাস বয়সী শিশু রাহাত। দু’দিন ধরে হচ্ছে পাতলা পায়খানা, সাথে বমিও। কিছুতেই কমছে না। উপায়ন্তর না পেয়ে দাদী রেহানা পারভীন শিশুটিকে কম্বল মুড়িয়ে নিয়ে আসেন দিনাজপুর শহরে। করছেন ডাক্তারের কাছে ছুটোছুটি। দুপুরে ডাক্তার না পেয়ে শহরের কালিতলায় আসেন ওষুধের দোকানে। আপাতত ওষুধের দোকানে ওষুধ নিয়ে পায়খানা ও বমি বন্ধের চেষ্ঠা চালান।
কালিতলা এলাকায় ওষুধের দোকানে ছুটোছুটি করতে দেখে কথা হয় রেহানা বেগমের সাথে। জানান বাড়ী দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় খোজাপুর গ্রামের। তিনি বলেন, দু’দিন থেকে একাধারে পাতলা পায়খানা ও বমি করছেন নাতি রাহাত। গ্রামের ডাক্তারের কাছে ওষুধ নিয়েও কাজ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে শহরে নিয়ে এসেছেন ডাক্তারের কাছে। কিন্তু দুপুরে কোন ডাক্তার না পেয়ে আপাতত ওষুধ নিতে এসেছেন।
গত কয়েকদিনের জেঁকে বসা শীতে দিনাজপুরে রাহাতের মতো শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে অসংখ্য শিশু। কেউ আক্রান্ত হয়েছেন নিউমোনিয়ায়, কারও পাতলা পায়খানা ও বমি, আবার কারও জ¦র ও সর্দি। দিনাজপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে বেড়েছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগ। শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন এসব রোগে।
দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ আসিফ ফেরদৌস জানান, প্রতিবছর শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। তবে আমাদের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়া আছে। তিনি বিশেষ করে শিশুদের শরীরে যাতে শীত না লাগে, সেজন্য গরম কাপড় পরিধান ও অসুস্থ্য হলে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে গতকাল রবিবার তাপমাত্রা মাপনযন্ত্রের পারদ কিছুটা উপরে উঠলেও দুপুর পর্যন্ত দেখা মিলেনি সূর্য্যরে। দুপুরের পর কিছুটা রোদ দেখা দিলেও অনুভুত হয় কনকনে শীত। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় তীব্র শীত অনুভুত হয়।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মোঃ তোফাজ্জল হোসেন জানান, গতকাল রবিবার দিনাজপুরে সকাল ৬ টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.০ ডিগ্রি সেলসিয়াল এবং বাতাসের আদ্রতা ৯৫ শতাংশ। দিনের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনাজপুরে শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসে আদ্রতার পরিমান ছিলো ৯৫ শতাংশ। যদিও এর আগের দিন শুক্রবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, বর্তমানে বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে জলীয় বাস্প বা কুয়াশার পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই সময়ে সূর্য্যরে আলোর প্রখরতা বা দাপট অনেকটাই কম থাকবে।
আগামী দু-তিন দিন দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত বা সামান্য কিছুটা হ্রাস-বৃদ্ধি হতে পারে। বৃষ্টির তেমন কোন সম্ভাবনা নেই। তবে ২৩ ডিসেম্বরের পর রাতের তাপমাত্রা ক্রমশ হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ডিসেম্বরের শেষের দিকে কিছু স্থানে শৈত্যপ্রবাহ বা শৈত্যপ্রবাহের মতো অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দেন তিনি।