
দিনাজপুরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ ময়না হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে পিবিআই পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৩’জনের বিচারকের নিকট স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।
বাসার বিদ্যুৎতের বিল ও সুদের টাকার জের ধরে নিজ স্ত্রীর গলায় রশি দিয়ে হত্যার পর রেললাইনের উপর ফেলে রাখে ঘাতক স্বামীসহ ৩ জন। পিবিআই পুলিশের অভিযানে গ্রেফতারকৃত স্বামীসহ ৩ জন আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। বুধবার দিনাজপুর শহরে পিবিআই পুলিশ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন, পিবিআই পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ মাহফুজ্জামান আশরাফ।
গ্রেফতারকৃত ৩’জন হলেন নিহত গৃহবধূ ময়না বেগমের স্বামী জাহিদুল ইসলাম(৩৮), তার ভায়রা আব্দুস সালাম(৩৫) ও চাচাত ভাই রুবেল(৩২)। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের দিনাজপুর-পঞ্চগড় রেললাইনের পাশ্ব থেকে গৃহবধূ ময়না বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ।
এসময় পিবিআই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে ময়না বেগমের জখম, গলায় পেচানো দড়ি ও রেললাইনের স্লাপারের সাথে বাধা দেখে সন্দেহ হয়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা লাল মিয়া বাদী হয়ে গত ২ নভেম্বর জাহিদুল সহ ৪/৫জনের বিরুদ্ধে দিনাজপুর জিআরপি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়ের হওয়ার পর থেকে পিবিআই পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করেন। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পিবিআই পুলিশ স্বপ্রনোদিত হয়ে মামলাটি অধিগ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করে। আদালত মামলাটি পিবিআই পুলিশকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়।
সূত্রটি জানান, মামলাটি তদন্তকালে নিহতের স্বামীসহ ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তারা ময়না বেগমকে হত্যার পর রেল লাইনে মরদেহ ফেলে রাখে। জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের স্বামী জাহিদুল ইসলাম জানাশ, ময়না বেগম স্বামীর অনুমতি না নিয়ে বিভিন্ন জনের নিকট হতে ধার কর্জ ও সুদের টাকা নেওয়ার জের ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। এসব কারনে আসামী জাহিদুল ইসলাম তার স্ত্রীকে একাধিকবার মারপিট করে।
ঘটনার দিন গত ২১ সেপ্টেম্বর স্ত্রী ময়না বেগমকে বিদ্যুত বিলের জন্য ২ হাজার টাকা সংগ্রহ করতে বলে, অন্যথায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বাড়ী থেকে বাহিরে বের হয়ে যায়। পরে সেই টাকা সংগ্রহ করতে না পারায় ওই দিন বিকালে জাহিদুল, ময়না বেগমকে মারপিট করে। এসময় ময়না বেগম রাগ করে বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়। পরে রাত ১০’টায় ঘটনাস্থলে আসামীরা ময়না বেগমকে গলায় দড়ি পেচিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা চালানোর জন্য রেললাইনের উপর ফেলে রাখে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. মহসীন আলী, প্রদীপ কুমার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজিমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।