
দিনাজপুর পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা’র নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে জুনায়েদ খন্দকার (২৫) ও হিমেল (২২) নামের দু’জন প্রতারককে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার দুপুর দু’টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ডিবি পুলিশের অভিযানে গ্রেফতারকৃত জুনাইদ খন্দকার নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রলেরবাড়ি চরহোসেনপুর গ্রামের মোঃ ইদ্রিস খন্দকারের পুত্র এবং তার সহযোগী মোঃ হিমেল ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরহোসেনপুর গ্রামের এরশাদ আলীর পুত্র।
সূত্রটি জানান, প্রতারক চক্রটি দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলায় দু’জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পপতি দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সরকার ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪(চিরিরবন্দর খানসামা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান মিয়ার নিকট নিজেদেরকে পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা’র পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করে। তারা নির্বাচনকালীন সময়ে দিনাজপুর-চিরিরবন্দর সড়কে পুলিশ বক্স স্থাপন করা হবে-এমন ভুয়া আশ্বাস দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি সন্দেহ জনক মনে হলে ক্ষতিগ্রস্ত ওই দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তি বিষযটি পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। এরপর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ডিবি পুলিশ প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু করেন।
পুলিশের সূত্রটি জানায়, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ থেকে প্রতারক চক্রের দু’জন সদস্যকে মঙ্গলবার ভোর রাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত দু’জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অবগত করেন।
তিনি বলেন, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকে এসব অপরাধ জনক কাজ করে যাচ্ছে। এরা সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে। মোবাইল ফোনে ভয়ভীতি প্রদর্শন, উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডের মিথ্যা আশ্বাসসহ নানা কৌশলে তারা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।
তিনি জানান, সম্প্রতি সময়ে এই প্রতারক চক্র দিনাজপুরে বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে প্রতারণা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল।
এ ঘটনায় দিনাজপুর চিরিরবন্দর থানায় গত সোমবার মধ্যে রাতে ওই উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি শিল্পপতি মোঃ হাফিজুর রহমান এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান বিএনপি সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়ার নিকট থেকে পুলিশ বক্স নির্মাণের অজুহাতে পুলিশ সুপারের নামে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত দু’জন প্রতারককে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের নিকট থেকে চাঁদা গ্রহণের ২ লক্ষ টাকা ও দু’টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যে চক্রটির সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।
দিনাজপুর ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন জানান,এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দু’জন আসামি জুনায়েদ খন্দকার(২৫) ও হিমেল (২২)কে মঙ্গলবার বিকালে দিনাজপুর সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। বিচারক তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এই প্রতারক চক্রের রহস্য উদঘাটন করা যাবে বলে তিনি ব্যক্ত করেন।