
শুধু আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করেই নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না। এর জন্য চাই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রচলিত পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। চাই নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নানা আইনি ব্যবস্থা থাকলেও তা কার্যত নারীর প্রতি সহিংসতা কমাতে খুব বেশি কাজে আসছে না।
নারীর প্রতি সহিংসতার ধরণ ও মাত্রা বর্তমানে বদলেছে। সহিংসতা প্রতিরোধে প্রতিবাদ করতে হবে, নিজেদের সচেতন হতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা।
মঙ্গলবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাবুবা খাতুন-এর সভাপতিত্বে ‘‘সাইবার সহিংসতাসহ নারী ও কন্যার প্রতি সকল প্রকার নির্যাতনকে না বলুন,নারী ও কন্যার অগ্রসরমানতা নিশ্চিত করুন’’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর-১০ ডিসেম্বর) ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা কমিটির সম্মানীয় সদস্য কানিজ রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুবিনা আকতার।
উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মিনতি ঘোষ, রত্না মিত্র, সুমিত্রা বেসরা প্রমুখ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের জেলা কমিটির লিগ্যাল এইড সম্পাদক গৌরী চক্রবর্তী। দিনাজপুর জেলার নারী ও শিশু আদালত এবং স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে নভেম্বর’২০২৪ হতে নভেম্বর ২০২৫ এই সময়কালে জেলায় নারী ও শিশু ধর্ষন মামলা হয়েছে ৩টি, নারী নির্যাতন মামলা হয়েছে ৩৩টি, শিশু নির্যাতন মামলা হয়েছে ৫২টি, যৌতুকের জন্য নির্যাতিত মামলা হয়েছে-৬৬৭টি এবং অন্যান্য মামলা হয়েছে-১০৬৭টি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এছাড়াও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার গৃহিত কর্মসূচীসমূহ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নারীর উপর পাশবিক নির্যাতনগুলো সমাজে বেড়েই চলেছে। বাড়ছে ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা। পাশাপাশি, বর্তমান সময়ে অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল করা বা পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং, আইডি হ্যাক করে সুপার ইম্পোজ ছবি তৈরী করে হয়রানি করা হয়। নারীর প্রতি সহিংসতার ধরন ও মাত্রা বর্তমানে বদলেছে।
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শক্তিশালী নারী আন্দোলন গড়ে তুলতে গণমাধ্যম সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সে জন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে ও নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনের জন্য তরুণদের ব্যক্তিমানুষ সং’গঠন, সরকার সকলকেই সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্র সংবিধানের মৌলিক শর্তমতে ব্যক্তি অধিকারের আইনী বৈষম্য দূর করতে দায়বদ্ধ রয়েছে।
তাছাড়া বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত সিডো সনদে স্বাক্ষর করা একটি রাষ্ট্র। তাই সিডো সনদের ধারা ২ ও ১৬ (গ) এর সংরক্ষন তুলে নেয়ার আন্দোলন জোরদার করতে হবে। সমাজের গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মনস্তাত্বিক পরিবর্তন ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে এ ধরণের সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব।