
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনটে ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে বৃদ্ধ মা-বাবার কাছ থেকে কৌশলে সব সম্পত্তি লিখে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে বাড়িছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধ ছবুর আকন্দ (৬৫) বাদি হয়ে তার ছেলে আব্দুল হামিদ ও পুত্রবধূ ময়না খাতুনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের গোপালপুর খাদুলী গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সবুর আকন্দ দরিদ্র মানুষ। তার দুই ছেলে ও তিন কন্যা সন্তান। তিন মেয়েকে অনেক আগেই বিয়ে দিয়েছেন। আর দুই ছেলের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। এক সময় কৃষি মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। বয়সের ভারে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে যাওয়ায় কাজকর্ম করতে পারেন না। তার বসতবাড়ি সহ মোট ৫০ শতাংশ জমি ছিল। সেখানে তিনি বসবাস করতেন। তার বড় ছেলে আব্দুল হামিদ প্রায় ৮ বছর আগে কৌশলে পুরো ৫০ শতাংশ জমি লিখে নিয়েছেন। তারপর থেকে বাড়িছাড়া করার কৌশল অবলম্বন করতে থাকেন।
এলাকাবাসী জানান, সবুর আকন্দ বয়সের ভারে অনেকটাই ন্যুব্জ। আয়রোজগার করার মতো অবস্থা তার নেই। মানুষের কাছ থেকে চেয়েচিন্তে দিন চলে তার। আব্দুল হামিদ তার মাবাবাকে ভরণপোষণ দেন না। কৌশলে সব জমি লিখে নিয়ে বাড়িছাড়া করতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মা-বাবার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালান। ছেলের নির্যাতন সইতে না পেয়ে সবুর আকন্দ তার স্ত্রী আয়েশা খাতুনকে (৬২) সঙ্গে নিয়ে ৫ দিন ধরে বাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববতি নিশ্চিন্তপুর গ্রামে ছোট মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
সবুর আকন্দ বলেন, এই সন্তানদের মানুষ করতে কতই না কষ্ট করেছি। নিজে না খেয়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছি। লালন-পালন করে বড় করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আজ সেই সন্তান একবারও জিজ্ঞেস করে না, কেমন আছি। তারা রান্না করে খায়, কখনো জিজ্ঞেস পর্যন্ত করে না, আমরা খেয়েছি কি না। তার চেয়ে বড় কথা, সেই সন্তান এখন মারধর করে। আমার কষ্টের টাকায় কেনা জমি লিখে নিয়েছে। এখন বাড়িতেও থাকতে দেবে না। তাই স্ত্রীকে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে আছি। কী লাভ সন্তানদের মানুষ করে। বুড়ো বয়সে সন্তানের হাতে মার খেতে হয়। এ কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, এ অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য একজন কর্মকর্তাকে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।