শেরপুর প্রতিনিধি ৫ নভেম্বর ২০২৫ , ৫:৩৪:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
শেরপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা নালিতাবাড়ীর একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি এখন কার্যত সংকটের আরেক নাম। তীব্র চিকিৎসক স্বল্পতায় ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। প্রায় চার লাখ মানুষের আশ্রয়স্থল ৫০ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক আছেন হাতে গোনা কয়েকজন, ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি।
নিয়মানুযায়ী এখানে মেডিক্যাল অফিসার থাকার কথা ১৭ জন, কিন্তু কর্মরত মাত্র ৬ জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ১০টি পদেও আছেন কেবল ২ জন। এর প্রভাব পড়েছে জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে প্রসূতি সেবা পর্যন্ত।
অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও বছর ধরে বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার। কারণ—অ্যানেসথেসিওলজিস্ট নেই। ফলে সিজারিয়ান ও অন্যান্য জরুরি অস্ত্রোপচার করাতে রোগীদের বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে জেলা সদরের বেসরকারি ক্লিনিকে, গুণতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
২০১৫ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাইকার সহায়তায় যুক্ত হয় নতুন সরঞ্জাম। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় সেগুলোর বেশিরভাগই এখন অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
রোগীর স্বজন রোজিনা বেগমের আক্ষেপ, “উপজেলা হাসপাতালে সিজার না হওয়ায় গরু বিক্রি করে মেয়েকে শেরপুরে নিতে হয়েছে। খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা।”
আরেকজন অভিভাবক আফাজ আলী জানান, “এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মেয়ের সিজারের খরচ মেটাতে হয়েছে। ৩০ হাজার টাকা আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য অনেক।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহাম্মেদ বলেন, “সিজারিয়ান সেবা পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সমাধান আসবে।”
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও অপারেশন থিয়েটার চালু না হলে নালিতাবাড়ীর সাধারণ মানুষকে আরও বেশি অর্থনৈতিক ও মানসিক কষ্টের মুখে পড়তে হবে।











