
নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকল্পে প্রসূতি মাতৃসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) পাশাপাশি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে নিরাপদে সন্তান প্রসব করিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। অন্যান্য চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রসূতি মায়েদের ডেলিভারির হার অনেক বেড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নরমাল ডেলিভারিকে গুরুত্ব দেওয়ায় প্রসূতিদের আগমন বেড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে একটি দল এখানে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে স্বাভাবিক ডেলিভারির মাধ্যমে ৭৭৭ জন শিশু স্বাভাবিক প্রসব করানোর পাশাপাশি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ৫৫ জন শিশুর জন্ম হয়েছে এই হাসপাতালে। এছাড়া গত জুলাই মাস থেকে সপ্তাহে একদিন আলট্রাসনোগ্রাফি সেবাও প্রদান করা হচ্ছে। উপজেলার দুই পৌরসভা ও আট ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত প্রসূতিরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বল্প খরচে এই প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন। এতে করে তাদের আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে। হাসপাতালের এ কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সেবাপ্রার্থীরা।
জানা যায়, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ৭৯, ফেব্রুয়ারি মাসে ৭৫, মার্চ মাসে ৭০, এপ্রিল মাসে ৮২, মে মাসে ৭২, জুন মাসে ৬১, জুলাই মাসে ৫৩, আগস্ট মাসে ৫৮, সেপ্টেম্বর মাসে ৬৩, অক্টোবর মাসে ৭০, নভেম্বর মাসে ৫৩, ডিসেম্বর মাসে ৪১ জন শিশুর স্বাভাবিক ডেলিভারিতে জন্ম হয়েছে। এছাড়া সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ৫৫ জন শিশুর জন্ম হয়।
নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকল্পে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর সেবার মান উন্নয়নের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা। তিনি গত ফেব্রুয়ারি মাসে চন্দনাইশে যোগদানের পর থেকে সেবা সম্প্রসারণের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সেবার মান বাড়ায় সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ও প্রত্যাশা বেড়েছে। প্রত্যাশা ও চেষ্টার সম্মিলনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি সেবা আরো এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেন, “সীমিত সুবিধা নিয়েও রোগীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আমি চন্দনাইশে যোগদান করার পর চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বাড়ানোর মধ্য দিয়ে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে। সে লক্ষ্যে আমি কাজ করে যাচ্ছি। উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা যাতে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে না হয় এবং দালালদের খপ্পরে পড়ে ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, সেজন্য উপজেলা হাসপাতালে ডেলিভারি সেবা বৃদ্ধি করছি। সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব চেষ্টা করে যাচ্ছি। ডেলিভারি করতে আমাদের হাসপাতালে সব ধরনের ব্যবস্থাপনা রয়েছে। আমরা মা ও শিশুর সুস্থ-সুন্দর জীবন নিশ্চিত করতে চাই। সে জন্য খুব বাধ্য না হলে, কোনোভাবেই সিজারে যেতে চাই না। আমাদের হাসপাতালে এ কারণেই সিজারের চেয়ে বহুগুণ বেশি নরমাল ডেলিভারি হচ্ছে।
প্রতি মাসে এতগুলো নরমাল ও সিজারিয়ান ডেলিভারি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, উপজেলার ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের সেবা যত্ন ও সচেতন করি। গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারির জন্য যাতে উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়, সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য সহকারীদের তদারকি করি।