Ibrahim Atiullah Anik
২১ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৩৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত ঋণের অর্থ ছাড়বে না আইএমএফ

নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত ঋণের অর্থ ছাড়বে না আইএমএফ

নির্বাচিত সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি দিচ্ছে না আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা পেলেই কিস্তির অর্থ ছাড় করা হবে।

ষষ্ঠ কিস্তিতে বাংলাদেশ পাওয়ার কথা প্রায় ৮০ কোটি ডলার। তবে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও নতুন সরকারের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত অর্থ ছাড়ে অনিচ্ছা জানিয়েছে আইএমএফ।  সম্প্রতি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠকে এ বার্তা দেয় সংস্থাটি। গভর্নর বলেন, চলতি ডিসেম্বরেই ঋণ ছাড়ের কথা থাকলেও নির্বাচনপূর্ব সময়ে আইএমএফ তাতে রাজি নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতি ভালো, ডলার স্থিতিশীল। আইএমএফ-এর নীতিসহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের অর্থ ছাড়া দেশ চলবে।’ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আইএমএফ যদি কঠোর শর্ত আরোপ করে, বাংলাদেশ তা মানবে না। এখন আগের মতো সংকট নেই।’

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ঋণ না ছাড়ার সিদ্ধান্ত মূলত আইএমএফ-এর চাপ প্রয়োগের কৌশল। এতে বোঝানো হচ্ছে—বাংলাদেশ সংস্কার শর্তগুলো পূরণে পিছিয়ে আছে। সংস্থাটি নতুন সরকারের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়ে পরে ঋণ ছাড়তে চায়।

এর আগে ২০০১ সালেও নির্বাচনের আগে আইএমএফ অনুরূপ চাপ প্রয়োগ করেছিল। এমনকি ২০২২ সালে ঋণ শর্তের অংশ হিসেবে জ্বালানি ও মুদ্রানীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করে সরকারকে তেল-গ্যাসের দাম বাড়াতে বাধ্য করেছিল সংস্থাটি, যার ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। এদিকে, ২৯ অক্টোবর আইএমএফ-এর একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে আসছে ঋণের ষষ্ঠ কিস্তির শর্ত পর্যালোচনায়। তারা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে, যা কিস্তি ছাড়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২.১৪ বিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি প্রবাহ ইতিবাচক, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিত এবং চলতি হিসাবে ঘাটতি নেই।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে আইএমএফ-এর কাছে সহায়তা চায় বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সংস্থাটি ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে, যা পরে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬০ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাগেরহাটে ১১ কেজি গাজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

রেনজিনা আহমেদ প্রিয়াঙ্কাকে আহ্বায়ক করে মোল্লাহাট উপজেলা মহিলা দলের কমিটি ঘোষণা

আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে র‍্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্টের গুরুত্ব ও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা

রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রাঙ্গুনিয়ায় আচরণবিধি মানছেনা শীর্ষ দু’দলের প্রার্থী

দেশ গড়ার পরিকল্পনা ধুনটে বিএনপি’র প্রশিক্ষণ কর্মশালা

খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

মির্জাপুর সরকারি এস.কে পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠান

খুলনায় ৫৪তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

বাংলাদেশের জনগণ ‘হ্যা’এর পক্ষেই চূড়ান্ত রায় দেবে – আখতার হোসেন

১০

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ইসলামী সমাঝোতার প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী কাসেমী

১১

সিরাজদিখানে জীর্ণ স্কুলভবনে সন্তানদের পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরা

১২

সিরাজদিখানে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

১৩

বান্দরবানে ১৪ ঘন্টায়ও কমেনি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের গাড়ির লাইন

১৪

ডিজিটাল সিকিউরিটির নামে আর কোনো সাংবাদিককে জেলে দেওয়া হবে না – খুলনা জেলা প্রশাসক

১৫

কাহালুর বীরকেদার ইউনিয়ন জাপার সভাপতি সম্পাদক সহ কয়েকজন বিএনপিতে যোগদান

১৬

আড়াইহাজারে বিদ্যুৎকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় এক আসামি গ্রেপ্তার

১৭

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

১৮

ধুনটে রাস্তার আরসিসি ঢালাই কাজের উদ্বোধন

১৯

গোপালগঞ্জ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

২০