
রংপুরের পীরগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় ১ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হছেয়ে। গুরুতর আহত ১১ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলেই মিজানুর রহমান নামের একজন মোটরসাইকেল চালক নিহত হলে আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছে উত্তেজিত ছাত্র-জনতা। এতে মহাসড়কের দুপাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে যানযটের সৃষ্টি হয়। শনিবার দুপুরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের জমাতলা নামক স্থানে পেট্রল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পীরগঞ্জ সদর থেকে ওই স্থানে ঢাকা মেট্রো- হ-৬৩-৭২৪৩ মোটরসাইকেল চালক ইউটার্ণ নিতে গেলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রংপুর গামী হানিফ এন্টার প্রাইজের ঢাকা মেট্রো-ব- ১৩-২৭০২ নম্বর বাসটি মোটরসাইকেল চালককে বাঁচাতে গিয়ে ব্রেক চাপলে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পাশের সড়ক বিভাজকে ধাক্কা লেগে উল্টে যায় এতে বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এসময় পিছনে থাকা অনিতা পরিবহন ঢাকা মেট্রো-ব- ১৫-৭৮৩৯ বাসটি ওই মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে ডান পাশের সড়ক বিভাজকে লেগে উল্টে যায়। এ সময় মোটরসাইকেল চালক সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। নিহত ব্যক্তির নাম মিজানুর রহমান (৩৬) তার বাড়ি নীলফামারি জেলার ডিমলা উপজেলার উত্তর কুমারপাড়া গ্রামে। তিনি বছির উদ্দিনের ছেলে।
খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থা গুরুতর হলে ৮ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। অন্যান্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করেছে।
উক্ত স্থানে সড়ক দূর্ঘটনায় ইতিপূর্বে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত হওয়ার সময় থেকেই আন্ডারপাস নির্মানের দাবি জানিয়ে আসছিল। আন্ডারপাস নির্মান না হওয়ায় শনিবারের ঘটনায় বিক্ষুবদ্ধ জনতা ফুসে উঠে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে।
মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। অবরোধকারীদের সাথে কথা বলে আন্ডারপাস নির্মাণের আশ্বাস দেন। সমাধানের জন্য আগামী ২৪ ঘন্টা সময় দিয়ে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বড়দরগাহ্ হাইওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, নিহতের পরিচয় পাওয়া গেছে। লাশ নিহতের পরিবাওে নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসগুলো জব্দ করা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হবে।