
অনলাইন ডেস্ক: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যা শুরু হয়েছে। বন্যায় ডুবতে বসেছে জনপদ এবং ফসল। পানিবন্দি হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এই বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এ জন্য বন্যা কবলিত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ ও টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ রোববারের (২৮ জুন) মধ্যে জেলাগুলোতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। নগদ ৪৭ লাখ টাকা এবং ৪৬০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন। জেলা প্রশাসকদের অধীনে সব সময় ত্রাণ বরাদ্দ রাখা থাকে। আজ অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম ও সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত বরাদ্দ যাবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (ত্রাণ) মো. ইফতেখারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বন্যা কবলিত আট জেলা চিহ্নিত করেছি। করোনার জন্য জেলা প্রশাসনের অধীনে ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া আছে। কিন্তু বন্যায় তা ব্যবহার করা যাবে না। এজন্য নতুন করে বরাদ্দ দিচ্ছি। তিনি জানান, আট জেলায় ৪৬০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিচ্ছি। জেলার বন্যার অবস্থা বুঝে বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে সুনামগঞ্জে একটু বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, দেশের ১০১টি পর্যবেক্ষণাধীন পানি স্টেশনের মধ্যে সর্বশেষ তথ্যে ৯টিতে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে কুমিল্লা অঞ্চলসহ রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ভারতের চেরাপুঞ্জ, পাসিঘাট, শিলং, জলপাইগুড়ি এবং বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং নীলফামারীতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এরফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে।