
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দক্ষিণ কোরিয়ার গয়াং শহরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন কে-জিও ফেস্টা ২০২৫-এ অংশগ্রহণ করে।
এর আগে গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের প্রথম দিন সকাল সোয়া ৯টার দিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমি, অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ডিজিটাল জরিপ এবং সমন্বিত ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমি, অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার লি সাং কিয়ং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় দুই দেশের মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমি, অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে। সেই বৈঠকে সারাদেশে ডিজিটাল ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ ও একটি সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম তৈরিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সম্পাদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবার এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলো।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সেমিনার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অংশ নেন। সম্মেলনের ফাঁকে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফলপ্রসূ বৈঠক হয়, যেখানে ডিজিটাল জরিপ ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সম্মেলনের শেষ দিন (২৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক ভূ-তথ্য সহযোগিতা অগ্রগতি বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, সৌদি আরব, আজারবাইজান, মঙ্গোলিয়া, পেরু, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নেয়। সভায় ডিজিটাল টুইনস, বৃহৎ তথ্য, জিও-এআই প্রভৃতি ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও উদ্ভাবনে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য একটি যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় সমস্যা হলো নির্ভুল ভূমি রেকর্ড ও পূর্ণাঙ্গ ভূমি তথ্য ভাণ্ডারের অভাব। সর্বাধুনিক ভূ-স্থানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারাদেশে ডিজিটাল জরিপ পরিচালনা ও নির্ভুল ভূমি রেকর্ড তৈরি করার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানে ভূমি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে সমগ্র বাংলাদেশে ডিজিটাল ভূমি জরিপ পরিচালনা ও সমন্বিত ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো। এর মাধ্যমে দেশে আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের ডিজিটাল ও জনবান্ধব ভূমিসেবা প্রদানের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।