
ফুটবলে বাইসাইকেল কিক খুব একটা সাধারণ দৃশ্য নয়। বছরের পর বছরেও এমন গোল কমই দেখা যায়। তাই যখনই কোনো খেলোয়াড় এই কৌশলে গোল করেন, আলোচনার ঝড় উঠতে বাধ্য। কদিন আগেই নেপালের বিপক্ষে দারুণ এক বাইসাইকেল কিক করে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী।
কিন্তু অধিকাংশ খেলোয়াড়ের কাছে যেখানে বাইসাইকেল কিক বিরল এক কীর্তি, ৪০ পেরোনো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কাছে তা যেন স্রেফ আরেকটি শিল্পকর্ম—যা তিনি বারবারই ফুটিয়ে তুলছেন। বয়সকে যেভাবে উপেক্ষা করে মাঠে জাদু দেখাচ্ছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। গতকাল রাতে সৌদি প্রো লিগে আল খালেজের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদো আবারও প্রমাণ করলেন তাঁর অদম্য সক্ষমতা। খেলাটি যখন প্রায় শেষের পথে, তখনই তৈরি হলো সেই মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের ৯৬ মিনিটে ডান দিক থেকে বদলি খেলোয়াড় নাওয়াফ বাওশালের ক্রসে বক্সে অবস্থান নেন রোনালদো। মুহূর্তের মধ্যে নিজেকে বাতাসে ভাসিয়ে পিঠ মাটির দিকে ঝুকিয়ে কাঁচির মতো পা বাড়িয়ে দুর্দান্ত শটে বল পাঠান জালে—গোলরক্ষক আন্থনি মারেজ কিছুই করার ছিল না। গোলের পর স্বাভাবিকভাবেই উৎসব শুরু করেন রোনালদো ও তাঁর সতীর্থরা। ম্যাচ শেষে নিজের সে দুর্দান্ত গোলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। তবে ক্যাপশন ভক্তদের ওপরই ছেড়ে দেন—লিখেন, “Best caption wins”। ভক্তরাও থেমে থাকেননি। কেউ লিখেছেন, “যে বাইসাইকেল কিক সমালোচকদের নিশ্চুপ করে দিল।” আরেকজনের মন্তব্য, “যে বল আকাশে উঠেছিল, তার গন্তব্য ছিল একটাই—জালের ভেতর।” আবার কেউ লিখেছেন, “এখনো রাজমুকুটটা তাঁরই মাথায় মানায়।”
রোনালদোর দুর্দান্ত গোলের রাতে আল নাসরও পেয়েছে সৌদি লিগের নবম জয়। এই জয়ে দলের পয়েন্ট দাঁড়ায় ২৭–এ। সমান সংখ্যক ম্যাচে আল হিলাল রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে, পয়েন্ট ২৩। পরবর্তী ম্যাচে এএফসি কাপে তাজিকিস্তানের ইস্টিকলোলের বিপক্ষে মাঠে নামবে আল নাসর।