
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরি-ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।চুরি-ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে জনসাধারণের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-দুপুর থেকে সন্ধ্যা-রাত সব সময়েই বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। গত কয়েক মাসে বোয়ালখালী উপজেলায় একাধিক চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সচেতন মহলের মতে, বর্তমানে উপজেলায় মানুষসহ কোনো কিছুই নিরাপদ নয়।
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার(৩১ ডিসেম্বর)দিবাগত রাতে বোয়ালখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কধুরখীল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনের লোহার গ্রিল কেটে আইসিটি ল্যাব ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষের তালা ভেঙে ৬টি ল্যাপটপ, ১০টি চার্জার ও ২টি প্রজেক্টর চুরি করে নিয়ে যায়। একই রাতে বোয়ালখালী উপজেলার ৬ নং পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা এলাকার বিদগ্রাম ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের মন্দিরের তালা ভেঙে দানবাক্স চুরি করে নিয়ে যায়।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাষ্টার বাজার এলাকার মিলন দাশের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মিলন দাশের পরিবারেরর সদস্য মিরা দাশ বলেন, রাত ৩ টার দিকে আনুমানিক পনের জন ডাকাতি করতে আসে। তার মধ্যে সাত জন ঘরে ঢুকে। সবার হাতে নতুন রাম দা ছিল। আমার পরিবারে মিলন দাশ, স্বপন দাশ, তপন দাশ, রুপন দাশ, সুমন দাশ, সুজন দাশ নামের ছয় ছেলে রয়েছে। তারা কেউ বাড়িতে থাকে না
আমি আমার পুত্র বধূদের নিয়ে একাই ঘরে বসবাস করি। রাতে ঘরে ডাকাত ঢুকে আমাকে মারধর করে এবং আলমিরা থেকে রুপন দাশের স্ত্রীর আট ভরি স্বর্ণ ও একটি আইফোন মোবাইলসহ দুটি মোবাইল নিয়ে যায়।এছাড়া সুজন দাশের স্ত্রীর সাত ভরি স্বর্ণ ও একটি মোবাইল এবং আমার (মিরা দাশের) সাত ভরি স্বর্ণ নিয়ে গেছে। স্বপন দাশের স্ত্রীর কানের দুল ও মোবাইল এবং টাকা নিয়ে গেছে।
এর আগে, গত (২৩ ডিসেম্বর) রাতে বোয়ালখালী আমুচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভেন্টিলেটর ভেঙে চোর চক্র অফিসে ঢুকে একটি মনিটর, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআর চুরি করে নিয়ে যায়।
গত (২৬ নভেম্বর) রাতে বোয়ালখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের লোহার কলাপসিবল গেট কেটে ডেক্সটপ কম্পিউটার এবং ভ্যাকসিন বিক্রির নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল।
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ৫ নং সারোয়াতলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মসজিদে চুরি, উত্তর সারোয়াতলী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নবারুণ সংঘ এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং কয়েকটি বাড়ি থেকে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
কধুরখীল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিত বড়ুয়া জানান, চোর চক্র পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ কক্ষগুলো তছনছ করে। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাতে একজন নৈশপ্রহরী দায়িত্বে থাকলেও তার চোখ ফাঁকি দিয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
বোয়ালখালী উপজেলার ৬ নং পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কিশোর ভঞ্জ বলেন, রাত আনুমানিক ১টা থেকে ২টার মধ্যে এ চুরি সংঘটিত হয়। তিনি বলেন, দানবাক্সটি বছরে একবার খোলা হয়, যেখানে সাধারণত প্রায় ৩০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এই অর্থ প্রতি বছর ২৩ মাঘ মন্দিরের বাৎসরিক উৎসবে ব্যয় করা হয়
আমুচিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার দেব জানান, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে অফিস খুলে ভাঙচুর ও কাগজপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।
এ বিষয়ে বোয়ালখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করলেও ইতোমধ্যে একাধিক চুরির ঘটনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে এবং দ্রুতই চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।