প্রতিনিধি ৫ নভেম্বর ২০২৫ , ১:০৩:২২ প্রিন্ট সংস্করণ
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি মঙ্গলবার রাতে ব্রুকলিনে অনুষ্ঠিত বিজয় ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন, “যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে কীভাবে এক স্বৈরশাসককে পরাজিত করা যায়, তবে সেটা এই শহরই দেখিয়েছে।”
এরপর ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে মামদানি মুচকি হেসে যোগ করেন, “আমি জানি আপনি আমার ভাষণ দেখছেন— তাই বলছি, টেলিভিশনের ভলিউম বাড়ান।” স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মামদানি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে পরাজিত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এবং সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়লেন। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে আরও দুই নারী রাজনীতিক ইতিহাস গড়েন— ভার্জিনিয়ায় ডেমোক্র্যাট অ্যাবিগেল স্প্যানবার্গার রিপাবলিকান উইনসাম আর্ল-সিয়ার্সকে হারিয়ে রাজ্যের প্রথম মহিলা গভর্নর নির্বাচিত হন, আর নিউ জার্সিতে ডেমোক্র্যাট মাইকি শেরিল রিপাবলিকান জ্যাক সিয়াটারেলিকে হারিয়ে গভর্নর নির্বাচিত হন।
নিউইয়র্কে বিজয়ের পর মামদানি বলেন, “স্বৈরশাসকরা কখনোই আমাদের শহরকে ভয় দেখাতে পারবে না।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সামাজিক ন্যায়বিচার, বিনামূল্যে শিশু যত্ন ও উন্নত গণপরিবহন— এসব প্রগতিশীল নীতি বাস্তবায়নই হবে তার অগ্রাধিকার। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তার উচ্চাভিলাষী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল ইতিমধ্যেই কর বৃদ্ধির তার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। পাশাপাশি, ব্যবসায়িক মহলের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়েও তাকে সতর্কভাবে এগোতে হবে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যেই মামদানিকে ‘সমাজতান্ত্রিক হুমকি’ বলে সমালোচনা শুরু করেছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে, তার প্রতিটি পদক্ষেপই রিপাবলিকান মহলে কড়া নজরদারিতে থাকবে। তবুও মামদানি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, তিনি শ্রমজীবী মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবায় কাজ করেই নিজের নেতৃত্ব প্রমাণ করবেন। মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বিজয় কেবল নিউইয়র্ক নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্যও এক শক্তিশালী বার্তা বহন করছে।
আগামী জানুয়ারিতে শপথ নেওয়ার পরই শুরু হবে এই তরুণ মেয়রের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার আসল পরীক্ষা।















