
ভারত থেকে চাল আমদানি এবং সরকারি সংস্থার মাধ্যমে খোলা বাজারে চাল বিক্রির প্রভাবে দিনাজপুরে চালের বাজারে নেমেছে দাম। ২৮ জানুয়ারি বুধবার দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন পাইকারি চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালের দাম কমেছে ৩ থেকে ৪ টাকা।
স্বর্ণা ও পাইজাম চাল, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে—এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা কেজিতে।
২৮ ও ২৯ জাতের চাল, যা ছিল ৪৬ টাকা কেজি—সেটিও নেমে এসেছে ৪৩ থেকে ৪৪ টাকায়। অন্যদিকে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭২ টাকা দরে।
চালের দাম কমায় যেখানে স্বস্তিতে ক্রেতারা, সেখানে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন—সরকারি ব্যবস্থাপনায় কম দামে চাল বিক্রির কারণে বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
চাল ব্যবসায়ী মাজাহার বিডিয়ার বলেন, সরকার ভারত থেকে চাল আমদানি করছে, আবার ওএমএস আর টিসিবির মাধ্যমে কম দামে চাল বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের বিক্রি অনেক কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা পুঁজি হারিয়ে পথে বসবো। সরকার যদি আমাদের বিষয়টা একটু দেখে, তাহলে আমরা উপকৃত হবো। এমন কথা বলেন চাল ব্যবসায়ী কেরামত আলী,সাজু মিয়া, সুফল কুমারসহ অনেকে
চাল ক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ও ফয়জার রহমান বলেন, চালের দাম কিছুটা কমেছে, এতে আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। তবে যদি আরও একটু কমে, তাহলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আরও সুবিধা হতো।
চালের দাম কমায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা—দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি তাদের টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলবে। এখন দেখার বিষয়, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়।