খুলনা

মনবল ধরে রেখেছি!

  প্রতিনিধি ৩ জুলাই ২০২০ , ৮:২৯:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

আরিফুল ইসলাম আরিফ, কুষ্টিয়া: করোনা মোকাবিলায় সামনে থেকে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। এতে দেশে অসংখ্য পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন, অনেকে মৃত্যুকেও বরণ করে নিয়েছেন। কেমন আছেন করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় চার মাস ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করা কুষ্টিয়ার পুলিশ সদস্যরা? আর কিভাবে তারা করোনা মোকাবিলায় নিয়োজিত আছেন? পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পদক্ষেপই বা কেমন এসব বিষয় নিয়েই কথা হলো কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে প্রায় চার মাস ধরে কাজ করে চলেছেন পুলিশ সদস্যরা। এক্ষেত্রে মনবল ধরে রেখেছি। প্রতি মুহূর্তে কুষ্টিয়া জেলাকে করোনামুক্ত করতে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছে এ জেলার পুলিশ সদস্যরা। প্রত্যেকটি পুলিশ সদস্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগেই পদক্ষেপ নিয়েছিলাম।’
‘পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্যদের দুই ভাগে ভাগ করে নিয়ে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আলাদা করে ফেলি। যাতে একটি গ্রæপ আক্রান্ত হলে বিকল্প গ্রæপ দিয়ে কাজ করতে পারি। এ জেলায় করোনার প্রথম দিকেই পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস, থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্পগুলোর প্রধান ফটকে জীবাণুনাশক টানেল তৈরির কাজ করেছি ও চলছে। এতে পুলিশ সদস্যদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় ২৪ জন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৮ জন। এখানকার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে করোনা আতঙ্ক থাকলেও দেশের ক্রান্তিলগ্নে তারা সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিমুহূর্তে। পুলিশ সদস্যরা এ ক্রান্তিলগ্নে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত আছেন।’
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় আমাদের তিনটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তার মধ্যে মানুষকে ঘরে রাখা ছিল আমাদের পুলিশ সদস্যদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়ত, করোনামুক্ত থেকে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, জেলার বাইরে যেমন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার বাইরে থেকে আসা মানুষকে ঘরে রাখা।
সচেতনতা সৃষ্টি করতে জেলার বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল­ায় মাইকিং করেছি।’ এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘করোনার প্রথম দিকেই মানুষকে সচেতন করতে কাজ শুরু করে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ। আমরা লিফলেট, হ্যান্ডবিল বিতরণ করেছি। এরপর বিদেশ ফেরত মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে বাড়ি বাড়ি লাল নিশানা টানিয়ে দেয়া হয়েছে। বিদেশ ফেরত ও ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর থেকে অনেকেই এলাকায় এসেছেন। তাদের তালিকা করা হয়েছে। এরপর তা স্থানীয় থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। তাদেরও ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কার্যক্রম জেলায় এখনও অব্যাহত রাখা হয়েছে।’
তানভীর আরাফাত বলেন, ‘জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ ভাইরাস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে জেলার পুলিশ সদস্যরা। করোনা আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধিতে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমরা কথা বলেছি। অনেকের বাড়িতে বাজার করে দিয়েছি। তাদের যে কোনো প্রয়োজনে আমাদেরকে জানাতে বলেছি। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। মানুষকে ঘরে রাখতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
পুলিশের ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে এসপি বলেন, ‘পুলিশ প্রথম থেকেই নিজেদের অর্থায়নে ত্রাণ বিতরণ করেছে। এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় প্রায় ১০ হাজার কর্মহীন ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা হাত পেতে খাবার চাইতে পারেন না, তাদের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিয়েছি। পুলিশের নিজেদের অর্থায়নে অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে।’
জেলার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, ‘প্রত্যেকটি নির্দেশনা দায়িত্ব মনে করে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। করোনায় মৃত ব্যক্তির সৎকারের কাজটিও করছেন পুলিশ সদস্যরা। অন্যদিকে পরিসংখ্যান বলছে অপরাধ কমেছে। আগের চেয়ে করোনাকালে মামলার সংখ্যা কমে গেছে। রেড জোন ভিত্তিক লকডাউন কঠোরভাবে পালন করতে এ জেলায় পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন নিরলসভাবে।