প্রতিনিধি ১৫ নভেম্বর ২০২৫ , ৬:০৪:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
ইতিহাসের একটি অধ্যয় ছিল যেখানে মানুষ বেচা-কেনা হতো। তখন দাসপ্রথার প্রচলন ছিল। দাসপ্রথা এখন বিলুপ্ত। কিন্তু আধুনিক যুগেও তার এক অদ্ভুত প্রতিচ্ছবি দেখা যায়, যেখানে মানুষ নিজের দিনটিকে বিক্রি করে, টিকে থাকার আশায় লড়াই করে যায়।
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া হাট ও বাজারে ধারে বসে এমন এক ব্যতিক্রমী হাট-মানুষের হাট। প্রতি শনিবার ও বুধবার কাকডাকা ভোরে এখানে ভিড় জমে মানুষের, যারা নিজেদের শ্রম বিক্রি করতে আসেন দিনের মজুরিতে। শ্রমিকদের চোখে একটাই প্রত্যাশা-আজ যেন কোনো কাজ মেলে, যাতে সন্তানের মুখে ভাত তুলে দেওয়া যায়। এই হাটে শ্রম বিক্রি হয় দিনে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। তবে অনেক সময় কেউ কেউ কাজ না পেয়েই বাড়ি ফেরেন।
রংপুর জেলা থেকে আসা শ্রমিক আবু হোসেন (৫০) বলেন, পরিবারের অবস্থা ভালো না থাকায় লেখাপড়া করতে পারিনি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে প্রতিমাসেই এখানে আসি। কখনো ৫০০, কখনো ৭০০ টাকায় দিন বিক্রি হয়। কিন্তু অনেক সময় কোনো কাজ পাই না। যেদিন কাজ পাই না, সেদিন পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হয়। শ্রমিকদের ভাষায়, আমরা বিক্রি করি পরিশ্রম, শরীর নয়। এই পরিশ্রমই তাদের জীবনের ভরসা, পরিবারের ভরণপোষণের একমাত্র অবলম্বন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাটে মালিকেরা এসে শ্রমিক বেছে নিচ্ছেন। কারও হাতের জোর, কারও অভিজ্ঞতা দেখে দর হাঁকেন। কারও দাম ওঠে ৪০০, কারও ৬০০ টাকা। দাম নির্ধারণ হয় যেন জীবনের প্রয়োজন অনুযায়ী, মানবিকতার নয়।
এখানে নেই স্থায়ী কোনো মালিক, নেই নিশ্চয়তা। আছে শুধু অনিশ্চিত শ্রমজীবনের এক টানা সংগ্রাম। তবু হাল ছাড়েন না তারা। দারিদ্র্য, ক্ষুধা আর অপ্রাপ্তির মাঝেও জীবনকে টিকিয়ে রাখেন নিজের ঘাম ঝরিয়ে।
কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়ায় এই “মানুষের হাট” আধুনিক সমাজের এক নীরব প্রতিচ্ছবি, যেখানে এখনো মানুষ বিক্রি হয়, তবে দাস হিসেবে নয়-বেঁচে থাকার লড়াইয়ে, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায়। নাটুয়ারপাড়া হাট বাজার ইজারাদার ও নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ সরকার জানান, বহু বছর ধরে এই হাটে মানুষ বেচাকেনার হাট বসে।

















