Bhorer Darpan
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৫:০৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মোরেলগঞ্জ উপজেলা সদরে শব্দদূষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

মোরেলগঞ্জ উপজেলা সদরে শব্দদূষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা সদরে শব্দদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ভ্যান-রিকশার লাগামহীন হর্ণ, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চস্বরে মাইক ব্যবহার, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রচারণা; সব মিলিয়ে প্রতিদিন অতিষ্ট হয়ে উঠছে মানুষের জীবন। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে, রোগীরা অসুস্থ পরিবেশে ভুগছে, আর সাধারণ পথচারীরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

উপজেলা সদরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মোরেলগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিদিন ভয়াবহ শব্দদূষণের শিকার হচ্ছে। ক্লাস চলাকালীন অবস্থায় রিকশা ও ভ্যানের হর্ণ, দোকানের বিজ্ঞাপন কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাইকের আওয়াজ ভেসে আসে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, এতে তারা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। পরীক্ষার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

একজন দশম শ্রেণির ছাত্রী জানান, “ক্লাসে শিক্ষক পড়াচ্ছেন, আর বাইরে থেকে ভ্যানের হর্ণ বা মাইকের শব্দ ভেসে আসছে। এতে মাথা ধরে যায়। পড়াশোনায় মন বসানো কঠিন হয়ে পড়ে।”

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রচারে মাইক ব্যবহার করছে। এদিকে স্থানীয় বেশ কিছু হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রোগী টানতে মাইকে প্রচারণা চালাচ্ছে। অথচ এসব স্থানে শব্দ নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে জরুরি। রোগীদের শান্ত পরিবেশে থাকার কথা থাকলেও সেখানে সারাক্ষণ উচ্চস্বরে প্রচার চলছে।

আগে রিকশা ও ভ্যান ছিল নীরব যানবাহন। কিন্তু এখন অনেক চালক মোটরসাইকেলের মতো হাই-পাওয়ার হর্ণ ব্যবহার করছেন। ইদানিং ভ্যানগুলো অনবরত প্যাঁ প্যাঁ শব্দে হর্ণ বাজাতে থাকে। কখনো কখনো বাজারের ব্যস্ত রাস্তায় হঠাৎ তীক্ষ্ণ শব্দে পথচারীরা ভয় পেয়ে যান। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার মেয়েকে প্রতিদিন স্কুলে আনতে-নিতে ভয় লাগে। রিকশা আর ভ্যানের হর্ণে রাস্তা পার হওয়া যায় না। মনে হয়, কোনো দুর্ঘটনা ঘটবেই।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের জন্য সহনীয় শব্দের মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবেল। অথচ মোরেলগঞ্জ সদরে দিনের বেলায় শব্দের মাত্রা প্রায়ই ৯০ থেকে ১১০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন এমন শব্দদূষণে থাকলে শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, মানসিক অস্থিরতা, অনিদ্রা ও শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বাংলাদেশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রয়োগ নেই। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চালানো উচিত। দোকান, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রচারে মাইক ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা দরকার। পাশাপাশি ভ্যান ও রিকশায় হর্ণ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে।

উপজেলা সদরের মানুষ এখন শব্দদূষণের কবলে অসহায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এর ভয়াবহ প্রভাব ভোগ করছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, ব্যক্তিগত সচেতনতা ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাগেরহাট প্রেসক্লাবের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

পটুয়াখালীতে গণভোট ২০২৬ বিষয়ে প্রচারনা উপলক্ষে “রোড শো” এর উদ্বোধন

রাজধানীতে নিজ বাসায় জামায়াত নেতা খুন!

কাপাসিয়ায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

দেবিদ্বারে নিখোঁজের ১২ দিন পর অটোরিকশাচালকের লাশ উদ্ধার

ভোলায় করিম-বানু ফাউন্ডেশনের কম্বল ও খাবার বিতরণ

রাঙ্গুনিয়ায় ভোটকেন্দ্র প্রধানদের সাথে উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় ‎

সাভারে বিএনপির পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

বকশীগঞ্জে ৮ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকসহ আটক ২

রাঙ্গামাটিতে গ্যাসের সংকটে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে শহরবাসী

১০

বোয়ালখালীতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

১১

বেসরকারি হাসপাতাল / ক্লিনিক পরিদর্শন টিম, লাইসেন্স প্রদানে করছে অনিয়ম

১২

ইউনূস সরকারের পদক্ষেপে অস্বস্তিতে ভারত? কী বলছেন দেশটির সেনাপ্রধান

১৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুয়া ডাক্তারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

১৪

শ্রীপুরে গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

১৫

সিংড়ার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত অধ্যক্ষ রকিবুল ইসলাম

১৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সাবেক ইউপি সদস্য নিহত

১৭

চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ১১দলীয় জোট প্রার্থী ওমর ফারুকের সমর্থনে রায়জোয়ারাতে উঠান বৈঠক

১৮

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কচাকাটায় দোয়া মাহফিল ও শোকসভা

১৯

অপারেশন সিঁদুর এখনও চলছে, পাকিস্তানের ভুলে ফের শুরু হতে পারে হামলা

২০