
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ঠিকাদার কর্তৃক বেতন বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে যমুনা সার কারখানার দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকরা। শনিবার তারাকান্দি যমুনা সার কারখানার প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারীরা।
শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, যমুনা সার কারখানার বিভিন্ন বিভাগ/শাখায় নানা ধরনের কাজের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগের চুক্তি পায় ঢাকার আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেড। কারখানা বন্ধ থাকার সময়ে ১৬৫ জন ও কারখানা চালুর পর ২৩৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সব জনবল সরবরাহের জন্য গত বছরের ২১ আগস্ট চুক্তিবদ্ধ হয়ে কার্যাদেশ পায় মেসার্স ‘আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেড’। কার্যাদেশ পাওয়ার পর হঠাৎ করেই ১৯০ জনের বেতন গত নভেম্বর মাস থেকে বন্ধ করে দেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এতে করে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ১৯০ জন শ্রমিকের বেতন বন্ধ হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিষহ জীবন পার করছেন তারা।
এ বিষয়ে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকরা একাধিকবার যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারকে জানালেও বেতন না দেওয়ায় বাধ্য হয়েই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে তারা।
যমুনা সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. দেলোয়ার হোসেন বললেন, আমি তাদের বেতন পরিশোধের জন্য গত ১৮ ও ২৯ ডিসেম্বর দুটি চিঠির মাধ্যমে ২৩৯ জন শ্রমিকের বেতন পরিশোধের কথা জানালেও সে বেতন পরিশোধ না করায় শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) কে জানিয়েছি। তারা ঠিকাদারকে নোটিশ করে গত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন পরিশোধ করে প্রমাণাদি প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করলেও এখনো বেতন পরিশোধ করেননি।
এ বিষয়ে মেসার্স আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেডের মালিক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা ২০২৫’ মোতাবেক এবং চুক্তি কার্যাদেশ অনুযায়ী সব শ্রমিক আমাদের প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করার কথা। কিন্তু যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষ ঝামেলা করছে। বিগত প্রায় চার মাস ধরে কোনো সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে গত নভেম্বর মাসের ১৯০ জন শ্রমিকের বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছি। জেএফসিএলের চুক্তি অনুযায়ী আমাদের প্রতিষ্ঠান উপরের শ্রমিক নিয়োগ প্রদানের পর ১৯০ জন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করা হবে।