
রাঙ্গামাটিতে মশার কয়েল থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনটি যাত্রীবাহী বাস, চারটি দোকান ও একটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
রাঙ্গামাটিতে মশার কয়েল থেকে ভয়াবহ আগুনে তিনটি যাত্রীবাহী বাস, চারটি দোকান ও একটি বসতবাড়ি পুড়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৩টার দিকে পুরাতন বাসস্টেশন এলাকার খাগড়াছড়ি, বান্দরবান বাস কাউন্টারের পাশের একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং পাশের আরও দুটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় ওখানে পার্কিং করে রাখা বাসগুলোতেও আগুন ধরে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই যানবাহন, দোকান ও বসতবাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা জানান, আগুনে দোকানের মালামাল, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত বাস মালিকরা বলেন, সকালে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান জেলায় যাওয়ার জন্য বাসগুলো কাউন্টারের সামনে রাখা হয়। কিন্তু এই ভয়াবহ আগুন আমাদের একমাত্র সম্বল বাসগুলোকে পুড়ে ছারখার করে দিয়েছে। আমরা একেবারে পথে বসে গেছি।
রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. মুর্শিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভোররাত ৩টা ৫৫ মিনিটে আমরা আগুন লাগার সংবাদ পাই। ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করি। প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।’
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনটি বাস, চারটি দোকান ও একটি বসতবাড়ি পুড়ে যায়। এতে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছি।
প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, পুড়ে যাওয়া দোকানের একজন কর্মচারী রাতে মশার কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমান। আমরা ধারণা করছি তার কোয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা।