
চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী তফসিল মতে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
নির্বাচনে চাঁদা ও অনুদান প্রদানে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ কোনো প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান প্রদান করতে পারবেন না এমন বিধি নিষেধ থাকলেও তা মানছে না কোন প্রার্থী।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত আটটায় উপজেলা সদর প্রশাসনিক কম্পাউন্ডে সরকারী বিধি বহির্ভূত বরাদ্দকৃত ভবনে কথিত প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডাক্তার এটিএম রেজাউল করিম কম্পিউটার সামগ্রী প্রদান করেন।
নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় নিষেধ থাকলেও চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের বিভিন্ন ইউনিয়নে চিকিৎসা ক্যাম্পের নামে কৌশলে নির্বাচনী প্রচারনা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। এসব প্রোগ্রামে প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকেরা দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও।
যা নির্বাচনী আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘন। সম্প্রতি রাঙ্গুনিয়া ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ব্যানারে চিকিৎসা ক্যাম্প, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান, কম্পিউটার সামগ্রী প্রদান ও এমপি নির্বাচিত হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।
তাছাড়া দলীয় ব্যানারে শোকসভা, পথসভা, গণসংযোগ, মাদরাসার বার্ষিক সভা, মিলাদ মাহফিল, ওরশ মাহফিল, প্রতিষ্ঠানের নামে ডাস্টবিন স্থাপন, হাট বাজারের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার, প্রার্থীর নামে দেয়ালে রঙিন পোস্টার সাঁটানো, খেলাধুলা উদ্বোধনের নামে প্রার্থীদের উপস্থিতি বা তাদের পক্ষে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মী সমর্থকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কোদালা চা বাগানে জামায়াতে ইসলামীর ২৫০০ জন নেতাকর্মী নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় যুবসমাবেশ।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ যুবসমাবেশে অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।
অন্যদিকে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের ব্যানারে বিএনপি প্রার্থীর ছবি দেখা গেছে। প্রার্থী নিজে ও পরিবারের সদস্যরা নিজ দলের প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। একেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্যোগে বিভিন্ন স্কুল কলেজে অনুষ্ঠিত ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পের ব্যানারে শোভা পাচ্ছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরীর ছবি। এসব ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে প্রার্থী নিজে, প্রার্থীর মা ফরহাদ কাদের চৌধুরী, প্রার্থীর স্ত্রী সামানজার খান সহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। তারাও সাধারণ জনগণের কাছে ধানের শীষে ভোট দানের আহবান জানিয়েছেন।
রাঙ্গুনিয়ায় নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গনের অহরহ ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নিরব। তবে সুন্নি মহাজোটের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী এড. এম ইকবাল হাসান, ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী এড. আবদুল্লাহ আল হারুন, এবি পার্টির মনোনীত ঈগল প্রতীকের প্রার্থী আবদুর রহমান মনির, খেলাফত মজলিসের মনোনীত দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আবুল কালাম আজাদের নির্বাচনী প্রচারনা, আচরণ বিধি লঙ্ঘনের তেমন কোন ঘটনা পরিলক্ষিত হয়নি।
১৭ জানুয়ারি রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের হাতে কম্পিউটার সামগ্রী আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করেন রাঙ্গুনিয়া ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডাক্তার এ টি এম রেজাউল করিমসহ অন্যান্যরা।
আচরণ বিধি লঙ্গনের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম বলেন, আমি কিংবা আমার দলের নেতাকর্মীর দ্বারা নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাঙ্গুনিয়া ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন সাংবাদিকদের একটি কম্পিউটার প্রদান করে। আমি এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির চেয়ারম্যান হওয়ায় আমাকে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। এতে আচরণ বিধি লঙ্গনের কি আছে? তবে তিনি দোয়া মাহফিল ও ফ্রী চিকিৎসা ক্যাম্পের নামে বিএনপির প্রার্থী আচরণ বিধি লঙ্গন করছে বলে অভিযোগ করেন।
এবিষয়ে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরীর সাথে বারবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো. নাজমুল হাসান জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে বিধিমালা মেনে সবধরনের প্রচারণা চালানো যাবে। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেক্ট্রোরাল ইনকোয়ারি ও এজুডিকেশন কমিটির নিকট প্রেরণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য নির্বাচনী আচরন বিধিতে আছে চাঁদা ও অনুদান: কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ কোনো প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান প্রদান করতে পারবেন না।
কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ যদি এই বিধি ভঙ্গ করেন অর্থাৎ চাঁদা বা অনুদান প্রদান করেন); তবে সেটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ মাসে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।