
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ফটিকছড়ি উপজেলায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে উপজেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ স্পর্ধিত অহংকার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী নাজমুল হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরমান হোসেন, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানসহ কর্মকর্তা – কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯ টায় উপজেলার কেন্দ্রীয় স্মৃতি সৌধে চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ সাইকেল র্যালী করে। র্যালিটি মরিয়ম নগর থেকে শুরু করে ইছাখালী সদরে হয়ে কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিটিতে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম। এসময় জামায়াতে ইসলামী, ইসলামি ছাত্রশিবির ও যুব বিভাগের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ১০.৩০টার বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট ইকবাল হোসাইন উপজেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। এসময় ইসলামি ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। একই সময় বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট. আব্দুল্লাহ আল হারুন সংগঠনের উপজেলা নেতৃবৃন্দের সরব নিয়ে স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সকাল ১১টায় রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রেসক্লাবের সংবাদকর্মীরা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন, পৌরসভা অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
শিশুদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বিজয় দিবস উপলক্ষে হাসপাতাল ও এতিমখানাগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। শিশুদের বিনোদনের জন্য উপজেলার বিনোদন কেন্দ্র ও শিশু পার্কসমূহ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখা হয় এবং বিনা টিকিটে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়।
জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, আত্মদানকারী ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় সুবিধাজনক সময়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এছাড়া মাল্টিমিডিয়া ও ডিশ ক্যাবল অপারেটরদের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।