
দিনাজপুর প্রতিনিধি : আলু আবাদ করে এবারও লোকসানের মুখে পড়েছে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার আলুচাষীরা। কাঙ্খিত দাম না পেয়ে হতাশ তারা। পর পর দু’বছর লোকসানের মুখে পড়ায় আগামীতে আলু চাষে উৎসাহ হারাচ্ছেন তারা। এতে আগামীতে আলুর আবাদ কমবে বলে আশংকা সংশ্লিষ্ঠদের।
এক বছর লোকসান গুনলে পরবর্তী বছরে ভালো দাম পেয়ে লোকসান পুষিয়ে নেন আলু চাষীরা। গত বছর দাম না পাওয়ায় এবার দাম বাড়বে-এমন আশায় এবার আলু চাষ করেছিলো কাহারোল উপজেলার আলুচাষীরা। চাষীরা ভালো ফলন ও ভালো দামের আশায় কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, রোমানা, এস্টারিজ, ক্যারেজ, ফুপরি, সাদা পাকরী, লাল পাকরীসহ বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করেছেন।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আলুর জমিতে তেমন রোগ বালাই না থাকায় উপজেলার প্রতিটি এলাকায় আলুর ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু আলু চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া গেলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিঘা প্রতি ২০-৩০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে আলু চাষীদের।
হাটিয়ারী গ্রামের আলু চাষী হরি মোহন বলেন, এবার তিনি ৩বিঘা জমিতে কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করেছেন প্রতি বিঘাতে প্রায় ৭০-৭৫ মন ফলন হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা থেকে ৩৬০ টাকা এতে লাভ হবেনা। অপরদিকে একই গ্রামের আলু চাষী মহন্ত জানান, গতবার আলু আবাদ করে অনেক টাকা লোকসান করতে হয়েছে এবারও ৫ বিঘা আলু আবাদ করে অনেক টাকা লোকসান করতে হবে।
আবার আলু তুলে বোরো ধান রোপন করলে ঐ জমিতে ধানের ফলন আন্যান্য জমির তুলনায় অনেক কম হবে। ফলে ধানেও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই কৃষকদের বাঁচাতে আলুর ন্যায্য দর নির্ধারণে দাবি জানান তিনি।
কাহারোল উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৩শত ৩৩ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে ৩ হাজার ৪শত ৭০ হেক্টর।
কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুর রহমান বলেন, আলু বপনের পর হতে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বিকভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছেন কৃষকদের। আলুর উৎপাদনও ভালো হয়েছে। এখন আলুর আমদানী বেশি হওয়ায় দাম তুলনামূলক কম। তবে হিমাগার বা নিজ বাড়িতে মাচা পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ করলে পরবর্তীতে চাষীরা ভালো দাম পাবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন গত বছর আলুর বাজার দর ধস নামার কারণে এই চলতি মৌসুমে আবাদ কমেছে প্রায় ৫শত ৪০ হেক্টর জমি।