প্রতিনিধি ১৬ নভেম্বর ২০২৫ , ১২:৩৪:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল-খুমস উপকূলে অভিবাসন প্রত্যাশীদের বহনকারী দুইটি নৌকা ডুবে চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নৌযান দুটিতে দুর্ঘটনা ঘটে এবং শনিবার লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট বিষয়টি নিশ্চিত করে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রথম নৌকাটিতে ২৬ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। দ্বিতীয় নৌকাটিতে ছিলেন ৬৯ জন যাত্রী—দুজন মিসরীয় এবং ৬৭ জন সুদানি নাগরিক, যার মধ্যে আটজন শিশু। রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধারে এবং নিহতদের মরদেহ সংগ্রহে তাদের জরুরি দল কাজ করছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। ত্রিপোলির উপকূলীয় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে প্রবেশের জন্য অনিয়মিত অভিবাসীদের একটি প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, এবং ইউরোপীয় দেশগুলো এ প্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
লিবিয়া ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই ইউরোপগামী অভিবাসীদের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। বর্তমানে দেশটিতে সাড়ে আট লাখেরও বেশি অভিবাসী অবস্থান করছে। গাদ্দাফির আমলে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষ লিবিয়ায় কাজের সুযোগ পেতেও পারত, কিন্তু পরবর্তী সময় দেশটি সংঘাত ও মিলিশিয়া গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, লিবিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীরা প্রায়ই নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও চাঁদাবাজির শিকার হন। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে সহায়তা দিয়ে আসছে, তবে সেই কোস্টগার্ডের সঙ্গে নির্যাতনে জড়িত মিলিশিয়াদের যোগাযোগ থাকার অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ইউরোপের দেশগুলো ধাপে ধাপে রাষ্ট্রীয় উদ্ধার অভিযান কমিয়ে দেওয়ায় সমুদ্রপথ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দাতব্য সংস্থাগুলোর উদ্ধার কর্মকাণ্ডও নানা ধরনের বাধার মুখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মধ্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

















