
গাজীপুরের শ্রীপুরে জাতীয়তাবাদী সমাজতান্ত্রিক দল (জাসাস) নেতাকে পিটিয়ে কুপিয়ে হত্যার রহস্য ১৩ দিনেও উৎঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। মৃত্যুর পূর্বে হত্যাকারীর নাম বলে যাওয়া প্রধান আসামী তারা মিয়া ৩ দিনের রিমান্ডে দেয়নি কোন তথ্য, শিকার করেনি নিজে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ড নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। মূল হত্যাকারী তারা ডাকাত আসামি হলেও তার সাথে থাকা হামলাকারীরা সনাক্ত হয়নি। পূর্ব বিরোধে পাঁচ জনকে আসামি করা অভিযোগ ভোক্তভূগীদের। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের আইনের আওতায় আনার দাবি এলাকা বাসীর।
গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে জাসাস নেতা ফরিদ সরকারকে গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর এলাকার আবুল কাশেমের ইট ভাটায় কুপিয়ে হত্যা করে দূবৃত্তরা। মৃত্যুর পূর্বে ফরিদ সরকার হামলাকারী এলাকার চিহ্নিত তারা ডাকাতের নাম বলে যায়। পর দিন নিহতের ভাই ফারুক হোসেন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয় তারা ডাকাতসহ আরো পাঁচ জনকে।
নিহত জাসাস নেতা মো. ফরিদ সরকার(৪০) উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, নিহত ফরিদ দীর্ঘ প্রায় ২১বছর জর্ডানে ছিলেন। আ’লীগ সরকারে পতনের পর দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দখল-চাঁদাবাজী সহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেন। গত ২৩ মার্চ গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে এক চিঠিতে জানানো হয়,“ দীর্ঘ দিন দলীয় কর্মকান্ডে জড়িত না থাকায় এবং তার বাবা আ’লীগের সাথে জড়িত থাকায় তাকে দলীয় পদ পদবী পরিচয় ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়।”
সূত্র মতে ফরিদ উপজেলার লতিফপুর গ্রামের কেবিএম নামক ইট ভাটার ব্যবসা দখলে নিতে চেষ্টা করেন। গত ১৯ডিসেম্বর রাতে ভাটার মাটি বহন কারী গাড়ি আটকে দেন। পড়ে বিষয়টি মিমাংশা করা হয়। পারিবারিক সূত্র মতে ২৩ ডিসেম্বর রাতে ব্যবসার কাজে ফরিদ ওই ভাটায় ছিলেন। ঘটনার রাতে ফরিদের মা ও তার স্ত্রীকে ইট ভাটায় কাজ আছে বলে বাসা থেকে বের হন। রাত দু’টারদিকে ফরিদ ও তার বন্ধু রাজিবকে নিয়ে ভাটায় যান। রাত তিনাটার দিকে তারা ডাকাত ও তার সঙ্গীরা ভাটায় আসে। এক পর্যায়ে তারা ডাকাত ফরিদকে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। এসময় ফরিদ স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার খোরশেদ আলম রফিককে মোবাইল ফোনে জানান,“তারা ডাকাত তাকে কুপিয়েছে। ” যার একটি অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান তারা ডাকাতের সাথে ফরিদের যোগ সূত্র ছিলো। ইট ভাটার ব্যবসা সংক্রান্ত অভ্যান্তরিন কোন্দলের কারণে তারা ডাকাত ফরিদকে কুপিয়ে থাকতে পারে। পূর্ব বিরোধের কারণে মামলায় হয়রানী করতে পাঁচ ব্যক্তিকে জড়ানো হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেতারের দাবী এলাকাবাসীর।
গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সদস্য মামুন সরকারসহ স্থানীয়রা বলেন, এ মামলায় পূর্ব আক্রোশে আসামাী করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত খৃনিদের আইনের আওতায় আনার দাবী করেন তিনি।
আপনারা তো কাউকে হামলা করতে দেখেননি তাহলে কিভাবে আসামি করলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে মামলার বাদী মো. ফারুক হোসেন জানান, আমার ভাই মৃত্যুর আগে তারা ডাকাতের নাম বলে গেছে। অন্যদের সাথে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ৫ ও ৬ নং আসামী অন্যদের সহায়তা করতো। এ জন্য তাদের মামলায় আসামি করেছি। এখন প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক মতিউর রহমান জানান, এ মামলায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি তারা ডাকাতকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে আনা হয়। হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রকৃত হর্ত্যাকারীদের সনাক্তের কাজ চলছে।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, এ মামলায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রধান আসামির রিমান্ডে দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বেশী বলা যাচ্ছেনা। প্রকৃত খুনিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।