
ওল্ড ট্রাফোর্ডে এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচে অদ্ভুত এক ঘটনায় লাল কার্ড দেখেছেন এভারটনের সেনেগালি মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গানা গ্যেয়ে। ম্যাচের মাত্র ১৩তম মিনিটে সতীর্থ মাইকেল কিনকে চড় মারার পরপরই রেফারি তাকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।
সংখ্যাগত দিক থেকে দ্রুতই পিছিয়ে পড়লেও রুবেন আমোরিমের দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ১–০ গোলে হারতে হয় স্বাগতিকদের। হারের পর ইউনাইটেড কোচ আমোরিম আবারও জানিয়ে দিলেন—তার দল এখনো প্রিমিয়ার লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো শক্ত অবস্থানে নেই। ম্যাচের শুরুতেই উত্তেজনার সূত্রপাত। ইউনাইটেডের এক আক্রমণ ঠেকানোর পর গ্যেয়ে বল তুলে দেন কিনকে ক্লিয়ার করার জন্য। কিন্তু কিন তা ঠিকমতো করতে না পারায় ব্রুনো ফের্নান্দেস শট নেওয়ার সুযোগ পান। যদিও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বিপদ এড়ায় এভারটন। এরপরই দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয় এবং ক্ষুব্ধ হয়ে গ্যেয়ে সতীর্থকে চড় মেরে বসেন। সঙ্গে সঙ্গে লাল কার্ড দেখান রেফারি। একজন কম নিয়ে খেললেও এভারটন লড়াই থামায়নি। ২৯তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় বক্সের বাইরে থেকে বল পেয়ে ড্রিবল করে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোনাকুনি শটে গোল করেন কিয়েরনান ডেউসবেরি-হল। সেই এক গোলই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। ইউনাইটেড দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ সাজালেও এভারটনের সুশৃঙ্খল রক্ষণ ও দুর্দান্ত গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ডকে ভাঙতে পারেনি। অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্রাফোর্ডে জয় এনে দেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, ঠিক এক যুগ আগে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউনাইটেডকে হারানোর সময়ও প্রতিপক্ষের ডাগআউটে ছিলেন ডেভিড ময়েস—যিনি এখন এভারটনের দায়িত্বে। এ হারের পর ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে ইউনাইটেড রয়েছে তালিকার ১০ নম্বরে। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে ১১ নম্বরে অবস্থান করছে এভারটন।
ম্যাচ শেষে হতাশ কণ্ঠে আমোরিম বলেন, “আমরা শীর্ষে লড়াই করার মতো অবস্থায় নেই—এমনকি শীর্ষের কাছাকাছি যাওয়ার অবস্থাতেও নই। এই ক্লাব যেখানে থাকার কথা, আমরা এখনো সেই মানে পৌঁছাতে পারিনি। গত মৌসুমের দুঃসময় ফেরার আশঙ্কাই এখন আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে।”