প্রতিনিধি ২ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:৩৫:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য ইসরায়েলকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশটিতে যে পরিবর্তন চলছে, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত বছরের ডিসেম্বরে বাশার আল আসাদের পতনের পর ইসরায়েল সিরিয়ায় শত শত হামলা চালিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে সিরিয়ার রাজনৈতিক রূপান্তরে সরাসরি ভূমিকা নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার কয়েক দিনের মধ্যে ট্রাম্প এই সতর্কতা দিয়েছেন। দেশটির নতুন প্রশাসনকে অস্থিতিশীল না করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
১ ডিসেম্বর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “সিরিয়ার সঙ্গে দৃঢ় ও আন্তরিক যোগাযোগ বজায় রাখা ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যা সিরিয়ার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করে। আমরা চাই সিরিয়া একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হোক।” সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার প্রশংসা করে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।” এদিকে ইসরায়েলের বিমান ও স্থল অভিযান সিরিয়ায় অব্যাহত রয়েছে। সিরিয়ার দাবি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ইসরায়েল দেশটিতে অন্তত এক হাজার বিমান হামলা ও চার শতাধিক স্থল অভিযান চালিয়েছে। এছাড়া গোলান মালভূমির নিরস্ত্রীকৃত বাফার জোনও দখল করেছে, যা ১৯৭৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে দামেস্ক। প্রেসিডেন্ট আল-শারা ইতোমধ্যে শান্তি স্থাপনে ৮ ডিসেম্বরের আগের সীমান্তে ফিরে যাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, “সিরিয়ায় যে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এতে সন্তুষ্ট। কঠোর পরিশ্রম ও সংকল্পের ফলেই এসব সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, সিরিয়াকে একটি বাস্তব ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড় করাতে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য অব্যাহত রাখবে। এদিকে সিরিয়ার ওপর আরোপিত বেশ কয়েকটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যেই তুলে নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী তালিকা থেকেও একাধিক সিরীয় কর্মকর্তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে সিজার সিরিয়া সিভিলিয়ান প্রোটেকশন অ্যাক্টসহ বাকি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। চাইলে প্রশাসন সর্বোচ্চ ১৮০ দিনের জন্য সেগুলো স্থগিত রাখার ক্ষমতা রাখে।

















