বাংলাদেশ

১১ জ্যৈষ্ঠ: কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

  প্রতিনিধি ২৫ মে ২০২২ , ৬:৪২:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ

ভোরের দর্পণ ডেস্কঃ

আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৫ মে, বুধবার) বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী। ইংরেজি বর্ষের ২৫ মে পালিত হয় নজরুলের জন্মদিন। আর বাংলায় ১১ জ্যৈষ্ঠ।

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (ইংরেজি সাল অনুযায়ী ২৫ মে ১৮৯৯ সাল) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। তাঁর ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।

সাম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ, নিপীড়ন, অনাচার, বৈষম্য, শোষণ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে অগ্নিকণ্ঠে সোচ্চার হয়ে লিখে গেছেন অসংখ্য গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও গান। তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে সুপরিচিত। বিদ্রোহী কবি হলেও তাঁর প্রেমিক রূপ ছিল প্রবাদপ্রতিম। তিনি ছিলেন চির প্রেমের কবি। এছাড়াও একাধারে তিনি কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, শিশু সাহিত্যিক, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক, সাংবাদিক, গীতিকার, সুরকার, স্বরলিপিকার, গীতিনাট্যকার, গীতালেখ্য রচয়িতা, চলচ্চিত্র কাহিনীকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, সঙ্গীত পরিচালক, গায়ক, বাদক, সঙ্গীতজ্ঞ ও অভিনেতা।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখে গেছেন ২২টি কাব্যগ্রন্থ, সাড়ে ৩ হাজার, মতান্তরে ৭ হাজার গানসহ ১৪টি সংগীত গ্রন্থ, ৩টি কাব্যানুবাদ ও ৩টি উপন্যাস গ্রন্থ, ৩টি নাটক, ৩টি গল্পগ্রন্থ, ৫টি প্রবন্ধ, ২টি কিশোর নাটিকা, ২টি কিশোর কাব্য, ৭টি চলচ্চিত্র কাহিনীসহ অসংখ্য কালজয়ী রচনা।

১৯৫৩ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় নীরবে-নিভৃতেই কাটে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন। ১৯৭২ সালের ২৪ মে জন্মদিনে ঢাকায় এনে তাকে জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কবির ‘চল্ চল্ চল্- ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’কে সামরিক সংগীত হিসেবে নির্বাচিত করে সম্মানিতও করেন।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন পিজি (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় এ কবিকে। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

কাজী নজরুল ইসলামের জন্মতারিখ নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। জন্মসন নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি না থাকলেও সমস্যা হয় জন্ম তারিখ নিয়ে। তবে প্রতিবছরের মতো এ বছরও ২৫ মে সরকারিভাবেই পালন করা হবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে নজরুল স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লায়। কুমিল্লার বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে (টাউন হল) ২৫ মে সকাল ১১টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ঢাকাসহ জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লার দৌলতপুর, মানিকগঞ্জের তেওতা, চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গা এবং চট্টগ্রামে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে নজরুল মেলা, নজরুল বিষয়ক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে স্থানীয় প্রশাসন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করবে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপনের জাতীয় কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

জাতীয় কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভার কার্যবিবরণীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা অনুষ্ঠান, রচনা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী আবশ্যিকভাবে উদ্‌যাপন করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

এ সভার সিদ্ধান্তের আলোকেই সব স্কুল-কলেজে জাতীয় কবির জন্মদিন উদ্‌যাপনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর। অধিদফতরের আদেশে বলা হয়েছে, সভার কার্যবিবরণী মোতাবেক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা অনুষ্ঠান, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে আবশ্যিকভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপনের জন্য বলা হয়েছে।

Powered by