
ভারত থেকে বেসরকারিভাবে আরও দুই লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার এ সিদ্ধান্তে স্বাগত জানিয়ে ভারতীয় মিল মালিক এবং রফতানিকারকরা বলছেন, নতুন করে চাল আমদানির অনুমতির মাধ্যমে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে রফতানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই সোমবার এক প্রতিবেদনে বলছে, মিল মালিকরা জানিয়েছেন, দেশের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে ২৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
এই সিদ্ধান্ত ২০২৫ সালের আগস্টে ঘোষিত ঢাকার আমদানি পরিকল্পনার একটি অতিরিক্ত সংযোজন। মূলত বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর মজুদ ঠিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ টন চাল আমদানি করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।
ভারতীয় চাল রফতানি ফেডারেশনের (আইআরইএফ) সভাপতি প্রেম গার্গ বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ ভারতের চালের স্থায়ী ক্রেতা। বাংলাদেশ নিয়মিত আমদানিকারক। দেশটিতে চাল রফতানির প্রাথমিক সুবিধাভোগী হলো অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরা।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছে হওয়ায় এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দাম কম হওয়ায় বিষয়টি ভারতীয় ব্যবসায়ীর জন্য সহায়ক।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে চালের খুচরা ও পাইকারি দামের, বিশেষ করে সিদ্ধ চালের মূল্যে দৃশ্যমান ঊর্ধ্বগতির পর সর্বশেষ বেসরকারি আমদানির সময়সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের জয় বাবা বাকেশ্বর চাল মিলের পরিচালক রাহুল খৈতান জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপের কারণে নতুন করে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
তার মতে, ‘বাংলাদেশ সরকার নতুন করে আরও দুই লাখ টন চাল আমদানির যে ঘোষণা দিয়েছে, তা বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে আগে ঘোষণা করা পাঁচ লাখ টন চালের অতিরিক্ত। বাংলাদেশে চালের দাম, বিশেষ করে সিদ্ধ চালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। আমার মনে হয়, সে কারণেই ওখানকার সরকার চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় মিলারদের জন্য বাংলাদেশে বাড়তি চাল রফতানি করার একটা ভালো সুযোগ তৈরি হবে।’
ভারতীয় মিলাররা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসারে- নতুন করে বেসকারিভাবে আমদানির জন্য অনুমোদিত এসব চালের পুরোটাই হচ্ছে অ-সুগন্ধযুক্ত পার্বোইল্ড চাল, যার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভাঙা দানা থাকতে পারে।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের আমদানিকারকদের মূল বস্তায় চাল বিক্রি করতে বলা হয়েছে এবং মজুদদারি রোধে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের কাছে আমদানি, সংরক্ষণ এবং বিক্রয়ের বিবরণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ যে ৯ লাখ টন চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেগুলোর মধ্যে পাঁচ লাখ টন বেসরকারি এবং বাকি চার লাখ টন সরকারিভাবে আনা হবে।
ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আরও দাবি করেছেন, ভারত এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং সাশ্রয়ী চাল রফতানিকারকে স্থান ধরে রেখেছে। কারণ সাম্প্রতিক টেন্ডারে অনুযায়ী, ভারতের সাদা চাল প্রতি টনের দাম পড়ছে ৩৫১ থেকে ৩৬০ ডলার, যেখানে পাকিস্তানের প্রতি টনের দাম চালের দাম ৩৯৫ ডলার করে পড়েছে।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট