চট্টগ্রাম

৩৬ লাখ টাকা দুর্নীতি: মিরসরাই বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উধাও

  মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ৮ নভেম্বর ২০২৫ , ৬:৫৩:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

৩৬ লাখ টাকা দুর্নীতি: মিরসরাই বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উধাও

দুর্নীতি ও দুষচরীত্রের অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কৃত চট্টগ্রামের মিরসরাই বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভুইয়া ঠিকানা পরিবর্তন করে গা ঢাকা দিয়েছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রেরিত নোটিশের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে ফেরত দিননি আত্মসাৎকৃত বিদ্যালয়ের ৩৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। গোপন স্থান থেকে ভিব্রতকর ও মিথ্যা তথ্য চড়াচ্ছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি (এডহক)র সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মআলী স্বাক্ষরীত গত ২৬ অক্টোবর দূর্ণীতির টাকা ফেরত চেয়ে প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভুইয়ার এনআইডিতে উল্লেখিত ঠিকানা বরারবর রেজিষ্ট্রি যোগে একটি নোটিশ পাঠানো হয় এবং একই নোটিশ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। কিন্তু আজিম উদ্দিন ভুইয়া উক্ত নোটিশ গ্রহণ না করে বিভ্রান্তীকর ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে উত্তর প্রদান করেছেন। এছাড়া তিনি অজ্ঞাত স্থান থেকে মোবাইলে বিভিন্ন গনমাধ্যমের কাছে সাক্ষাতকারে বলেন অডিট কমিটি তার বিরুদ্ধে যে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন তা এক তরফিয়া। তার মতামত ছাড়াই অডিট প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে তিনি ওই অর্থ ফেরত না দিয়ে আইন লড়াই চালিয়ে যাবেন।

বিদ্যালয়ের আর্থিক আয়-ব্যয় পর্যালোচনার কাজে নিয়োজিত সরকার নিবন্ধিত অডিট ফার্ম “মাহমুদ সবুজ এন্ড কোং” এর অডিট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভুইয়া মিরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে ১০ বছরে বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল বাউচারের মাধ্যমে ৩৬ লাখ ৭৭ হাজার ৫১০টাকা আত্মসৎ করার অকাট্য দালিলিক প্রমান পাওয়া গেছে। তিনি যদি এই প্রতিবেদনকে চ্যালেঞ্জ করতে চান তার সেই সুযোগ রয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ে এসে তদন্ত প্রতিবেদনে যে সকল অসঙ্গতি নির্ধারণ করেছে সে গুলোর উত্তর ও উপযুক্ত ব্যাখ্যা পারেন।

বিদ্যালয় পরিচালনার কমিটির প্রধান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলি জানান, প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভুইয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ রয়েছে। তিনি ইচ্ছে করলে যে কোন সময় বিদ্যালয়ে এসে তদন্ত প্রতিবেদন নিজে দেখে তার উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে পারেন । তাকে দূর্ণীতি ও দূষচরীত্রের কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোবের মুখে ৪ জুন ২০২৫ইং তারিখে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

সাময়িক বহিষ্কার থাকা অবস্থায় তিনি বিদ্যায় থেকে নিয়মিত খরপোষ গ্রহণ করছেন। সাময়িক বহিষ্কার থাকা অবস্থায় নিয়ম অনুযায়ী তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে হাজারা নিশ্চত করার কথা। কিন্ত বহিষ্কারের পর থেকে তিনি ঠিকানা পরিবর্তন করে অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে আছেন। সাময়িক বহিষ্কারের পর গত ২৬ অক্টোবর সরকার অনুমোদিত অডিট প্রতিষ্টানের অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৬ লাখ ৭৭ হাজার আত্মসাৎকৃত টাকা ৫ কর্মদিবসের মধ্যে বিদ্যায় তহবিলে ফেরত চেয়ে নোটিশ করা হয়। কিন্তু তিনি যথা সময়ে অর্থ জমা না দেয়ায় পুনরায় ৫ নভেম্বর বিদ্যালয় অফিস পিয়ন মারফত, রেজিষ্ট্রি যোগে ও তার ব্যাক্তি গত মোবাইল নাম্বারের ওয়ার্টএ্যপ নাম্বারে নোটিশ প্রেরণ করা হয়।

নোটিশে লিখা হয় বিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতিসাধন, চরম অসদাচরণ, মারাত্মক শৃঙ্কলাভঙ্গ, চরম নৈতিক শঙ্খলন এবং সীমাহীন দুর্নীতিরি অভিযোগের ভিত্তিতে বেসরকারি মাধ্যমিকজ বিদ্যালয়ের প্রযোগ্য বিধি ও আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না? তাই এই নোটিশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) দিনের মধ্যে বিদ্যালেয় আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দিয়ে এডহক কমিটি বরাবরে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেয়া হয়।

বিদ্যালয়ে অর্থ আত্মসাৎ সহ গুরুতর বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাময়িক বহিষ্কৃত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভুইয়ার ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও খবর

Sponsered content