Ibrahim Atiullah Anik
৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:৪২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

৪ ডিসেম্বর দেবিদ্বার হানাদারমুক্ত দিবস

৪ ডিসেম্বর দেবিদ্বার হানাদারমুক্ত দিবস

আজ ৪ ডিসেম্বর কুমিল্লার দেবিদ্বার হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেবিদ্বার পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের রক্তঝরা সেই দিনগুলোতে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে কুমিল্লার বিভিন্ন অঞ্চল একে একে হানাদারমুক্ত হতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ৪ ডিসেম্বর দেবিদ্বারও মুক্ত হয়। ওইদিন মুক্তিবাহিনী কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ সেতুটি মাইন বিস্ফোরণে ধ্বংস করে দেয়।

মিত্রবাহিনীর ২৩ মাউন্টেন ডিভিশনের জেনারেল আর. ডি. হিরার নেতৃত্বে বৃহত্তর কুমিল্লায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। মিত্রবাহিনীর একটি ট্যাংক বহর বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া হয়ে দেবীদ্বারে প্রবেশ করলে রাতের আঁধারেই পাক হানাদাররা দেবিদ্বার ছেড়ে কুমিল্লা সেনানিবাসে পালিয়ে যায়।

মুক্ত এলাকার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে থাকেন মুক্তিযোদ্ধারা। তবে দেবিদ্বার থেকে চান্দিনা অভিমুখে যাওয়ার পথে মোহনপুর এলাকায় ভুল বোঝাবুঝির কারণে মিত্রবাহিনীর ট্যাংক বহরের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে মিত্রবাহিনীর ছয় সেনা শহীদ হন।

এইদিন দেবিদ্বারের আকাশে উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলার পতাকা। হাজারো জনতা ও মুক্তিযোদ্ধার বিজয় উল্লাসে উপজেলা সদর প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

দেবিদ্বার মুক্তিযুদ্ধের সময় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছিল। কারণ খুব কাছেই ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সেনাছাউনি ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট। স্বাধীনতা ঘোষণার মাত্র পাঁচ দিন পরই এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পাক সেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে ১৫ জন পাক সেনাকে হত্যা করেন; শহীদ হন ৩৩ জন বাঙালি যোদ্ধা। এ অঞ্চলের প্রতিটি গ্রামেই হানাদারদের নৃশংসতার দাগ আজও স্মৃতিচিহ্ন হয়ে রয়েছে।

ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা-নেতাদের ভারত সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার নিরাপদ পথ ছিল দেবিদ্বার এলাকা। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য ফতেহাবাদের ‘নলআরা’ জঙ্গল এবং ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের এলাহাবাদের নিজবাড়িতে দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও গড়ে তোলা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যার দিক থেকে দেবিদ্বার ছিল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুক্তিযোদ্ধা অধ্যুষিত এলাকা।

দেবিদ্বার অঞ্চলে পাক হানাদারদের বর্বরতার সাক্ষী হয়ে আছে ১৯ শহীদের গণকবর, পোনরা শহীদ আবুবকরের কবর, ভূষনা ও বারুর গ্রামের শহীদদের কবর, মাওলানা আলীমুদ্দিন পীরের দুই নাতির কবর, ভিড়াল্লার শহীদ মজিবুর রহমান খানের কবর, মহেশপুরের ১৪ মুক্তিযোদ্ধার কবর, বরকামতার ২৬ শহীদের কবরসহ অসংখ্য স্মৃতিস্তম্ভ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাগেরহাটে ১১ কেজি গাজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

রেনজিনা আহমেদ প্রিয়াঙ্কাকে আহ্বায়ক করে মোল্লাহাট উপজেলা মহিলা দলের কমিটি ঘোষণা

আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে র‍্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্টের গুরুত্ব ও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা

রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রাঙ্গুনিয়ায় আচরণবিধি মানছেনা শীর্ষ দু’দলের প্রার্থী

দেশ গড়ার পরিকল্পনা ধুনটে বিএনপি’র প্রশিক্ষণ কর্মশালা

খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

মির্জাপুর সরকারি এস.কে পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠান

খুলনায় ৫৪তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

বাংলাদেশের জনগণ ‘হ্যা’এর পক্ষেই চূড়ান্ত রায় দেবে – আখতার হোসেন

১০

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ইসলামী সমাঝোতার প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী কাসেমী

১১

সিরাজদিখানে জীর্ণ স্কুলভবনে সন্তানদের পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরা

১২

সিরাজদিখানে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

১৩

বান্দরবানে ১৪ ঘন্টায়ও কমেনি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের গাড়ির লাইন

১৪

ডিজিটাল সিকিউরিটির নামে আর কোনো সাংবাদিককে জেলে দেওয়া হবে না – খুলনা জেলা প্রশাসক

১৫

কাহালুর বীরকেদার ইউনিয়ন জাপার সভাপতি সম্পাদক সহ কয়েকজন বিএনপিতে যোগদান

১৬

আড়াইহাজারে বিদ্যুৎকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় এক আসামি গ্রেপ্তার

১৭

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

১৮

ধুনটে রাস্তার আরসিসি ঢালাই কাজের উদ্বোধন

১৯

গোপালগঞ্জ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

২০